নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে ১১ দলের বিক্ষোভ আজ

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিকেলে শুরু হবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সমাবেশ; কারচুপির অভিযোগে পুনঃগণনার দাবিও ঘোষণা।
টুইট প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আজ বিকেলে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট।
কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ–এর উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে সমাবেশে রূপ নেবে।
দলীয় সূত্র জানায়, জোটের শীর্ষ নেতারা সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। গতকাল নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর জোটের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
জোট নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে। তারা দাবি করেন, অন্তত ৩০ থেকে ৩২টি আসনে ভোট পুনঃগণনা অথবা আইনি লড়াই চালানো হবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ তোলেন তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রায় ২০৯ থেকে ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন লাভ করেছে।
এদিকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী এই কর্মসূচি দেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও।






