দেশ ও জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রথম: পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান

টুইট ডেস্ক: পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিএনপি দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রথম গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করব।’ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সাংবাদিক অশোক রাজের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক খাতের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন।
ভারত, পাকিস্তান এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা কীভাবে হবে জানতে চান যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেন্ডেন্টের সাংবাদিক আলিশা রহমান সরকার। পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ভাগনি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলা নতুন সরকার এগিয়ে নিয়ে যাবে কিনা জানতে চান যুক্তরাজ্যের এ সাংবাদিক।
এ দুই প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশ ঘিরে হবে না; সব দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। দুর্নীতির মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা বিচার বিভাগের বিষয়।
সরকার গঠন করার পর বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ কী হবে জানতে চান কাতারভিত্তিক আলজাজিরার এক সাংবাদিক। জবাবে তারেক রহমান বলেন, বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ঠিক করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বিগত সরকার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকীকরণ করেছে। সে জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ কৌশলকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য কীভাবে দেখছেন চীনের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করব, যা কিছু বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা সেদিকে যাব না। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যদি দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক হয়, তখন সিদ্ধান্ত নেব।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক বই
তরুণদের বিএনপি কতটা গুরুত্ব দেবে এমন প্রশ্ন করেন এক বিদেশি সাংবাদিক। তারেক রহমান বলেন, আমরা অবশ্যই তরুণদের কথা শুনব। কিন্তু সমাজে আরও অনেকে রয়েছে। সবার কথা ভাবতে হবে। আমাদের ইশতেহারেও আমরা সবার কথা বলেছি। সেখানে তরুণের কথা আছে, বয়স্কদের কথা আছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কথা আছে, নারীর কথা আছে।
শেখ হাসিনার বিচার এবং সার্ক পুনর্গঠন বিষয়ে জানতে চান পাকিস্তানের জিও নিউজের সাংবাদিক এজাজ সাইদ। তারেক রহমান বলেন, সার্ক গঠনের উদ্যোগ বাংলাদেশের ছিল। আমরা সার্ককে সক্রিয় করতে চাই। সরকার গঠনের পর আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব। শেখ হাসিনার বিচার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, এটা আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
সংবাদ সম্মেলনে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কোন খাতকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে, তা জানতে চান চীনের আরেক সাংবাদিক। তারেক রহমান বলেন, অনেকের মতো চীনও বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। আশা করছি, ভবিষ্যতে দুই দেশই একসঙ্গে কাজ করবে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাংবাদিক ভেঙে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিএনপির পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তারেক রহমান বলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আমরা আরও বেশি ব্যবসা নিয়ে আসব, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করব।
গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা রয়েছেন। তাদের মূলধারায় ফেরানোর পরিকল্পনা জানতে চান এক বিদেশি সাংবাদিক। জবাবে তারেক রহমান আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমরা চেষ্টা করব আইন যেন আইনের মতো চলে।
বিগত সরকারের আমলে অলিগার্ক তৈরি করে অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেবে– জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি হবে। সবাই সবার যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারের অর্থ ফেরাতে আপনার পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আমাদের ইশতেহারে এই প্রশ্নের জবাবগুলো সুন্দরভাবে পাবেন। ইশতেহারে বলেছি, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। অর্থাৎ আমরা এমন একটা অর্থনীতি সূচনা করতে চাই, যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন।
নির্বাচনের আগে থেকে তারেক রহমান বলে আসছিলেন, এই নির্বাচন বিএনপির জন্য সহজ হবে না এই কথা উল্লেখ করে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঠিকানার সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চান, বিএনপির জন্য নির্বাচন কতটা কঠিন ছিল এবং জয়ের জন্য কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে হয়েছে কিনা? জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাটাই কঠিন ছিল। যে কোনো ভালো কাজ, লক্ষ্য অর্জন করতে গেলে কষ্ট তো হবেই। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণকে নিজেদের পক্ষে আনা এবং তাদের আস্থা অর্জনই ছিল আমাদের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’। সেটাতে আমরা সফল হয়েছি।






