শপথে মোদি–শেহবাজসহ বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ: আগমন নিশ্চিত নয়, তবু উত্তেজনা তুঙ্গে

ছবি: সংগৃহিত

মোদি আমন্ত্রণে বিতর্ক, অনলাইনে বিক্ষোভের ডাক

টু্ইট প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ–সহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

পাশাপাশি চীন, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদেরও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হচ্ছে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর পক্ষ থেকে এসব আমন্ত্রণ পাঠানো হচ্ছে এবং বিএনপির হাইকম্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করেই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজন করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ও তার মিত্ররা প্রায় ২১২টি আসন পেয়েছে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা বিভিন্ন সূত্র মতে ৭৭টি আসন পেয়েছে। নির্বাচনোত্তর প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ আবারও গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এসেছে।” ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে এই বিজয়কে বিএনপি ‘ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।

তবে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (সাবেক টুইটার)-এ ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় #ModiInBangladesh, #NoModiInDhaka ও #আরেকটিজুলাই হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করেছে। বহু পোস্টে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে সতর্ক করা হয়েছে যে, মোদি ঢাকায় এলে ‘আরেকটা জুলাই’র মতো ছাত্র-জনতার আন্দোলন বা সহিংসতা হতে পারে।

কয়েকটি থ্রেডে ২০২১ সালের অ্যান্টি-মোদি বিক্ষোভ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের পুরোনো ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে সম্ভাব্য প্রতিবাদের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। একাধিক ভাইরাল পোস্টে বলা হয়েছে, “মোদি আসলে আরেকটা জুলাই হবে,” এবং “মোদিকে আমন্ত্রণ করে কেন নতুন অশান্তি ডেকে আনা হচ্ছে”—যা হাজারো লাইক ও রিটুইট পেয়েছে।

যদিও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের কারণে মোদি ঢাকায় না-ও আসতে পারেন এবং তার সফর এখনো সরকারিভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও অনলাইনে বিতর্ক তুঙ্গে। বিএনপি নেতারা বলছেন, আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোদি–শেহবাজসহ আঞ্চলিক নেতাদের এক মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান ও মুসলিম বিশ্বে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও প্রবাসী কল্যাণে নতুন সরকারের অগ্রাধিকারও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ ও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখনো ঢাকায় বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া না গেলেও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ১৭ ফেব্রুয়ারির শপথ অনুষ্ঠান শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জনমত এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত বহন করছে; তবে সম্ভাব্য বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণ ঘিরে জনমতের বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।