রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা

বাগমারায় পরিবর্তনের বার্তা, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিতে শক্ত অবস্থানে বিএনপি প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে মোট ১২২টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। ভোটকেন্দ্রগুলো সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং অন্যান্য সরকারি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে।

এই আসনে মোট চারজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন—বিএনপির প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক (লাঙ্গল)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া স্থানীয় উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, কৃষি সহায়তা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ভোটারদের কাছে সমর্থন চাইছেন। প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে উভয় প্রার্থীই জনসভা, পথসভা ও লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৩৬৬ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এই আসনে ভাসমান ভোটারের হার প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ, যা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা এবং ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতিই জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন গ্রহণ করেছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার নাঈমুল হাসান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা, মোবাইল টিম এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রস্তুত থাকবে।

প্রশাসন সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক র‍্যাব অভিযানে বাগমারা উপজেলায় ৫৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য নাশকতা বা সহিংসতার আশঙ্কা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহী বিভাগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাগমারা আসনটি স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার প্রশাসনের কড়া প্রস্তুতির কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আশাবাদী নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

সার্বিকভাবে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে নির্বাচনী উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মতামত জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে, যা রাজশাহী জেলার সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।