নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্পূর্ণ: জুবাইদা রহমান

টুইট ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ৫১ শতাংশ নারী। দেশ গঠনে তাই তাদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা আজ সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের চেষ্টা করতে পারি। দেশের উন্নয়ন নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া অসম্পূর্ণ।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে আয়োজিত ‘গুলশান-বনানী-বারিধারা সোসাইটি নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা’য় তিনি এসব কথা বলেন। ডা. জুবাইদা রহমান বক্তব্যের শুরুতে স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে।
তিনি বলেন, ‘মনে পড়ছে বাংলাদেশের সেই অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনের কথা, যারা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় চিকিৎসার অভাবে অকালে ঝরে পড়ে। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে, প্রতিটি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে নিরাপদভাবে জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমার আজ মনে পড়েছে, অবহেলিত সেই কন্যা শিশুর কথা যে প্রতিদিন ভয়ে থাকে, শঙ্কায় থাকে, সে বুঝি বাল্যবিবাহের শিকার হবে। কখন তার জীবনের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাবে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে চাই, বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ, মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
কোনো কন্যাশিশু আর মন খারাপ করে থাকবে না, যে কখন তাঁর সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে পড়ে যাবে। আজ চিন্তা হচ্ছে সেই কর্মজীবী মহিলার কথা এবং কলেজ ইউনিভার্সিটির সেই ছাত্রীর কথা, যাকে প্রতিক্ষণ অস্বস্তিকর অন্যায় ব্যবহারের শিকার হতে হয়। যে স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারে না, হাজারো লক্ষ গার্মেন্টস কর্মী, বোন যাদের রাতের অন্ধকারে চলাচলে নেই নিরাপত্তা। তারাও চায় সচেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি। আমরা নিশ্চিত করতে চাই তাদের সবেতনে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি।
আমরা নিশ্চিত করতে চাই, নিরাপত্তা এবং তাদের সুরক্ষা, নিরাপদ আবাসন, যাতায়াত ব্যবস্থা ও কর্মস্থলে ডে কেয়ার সেন্টার। প্রত্যেক মা নিশ্চিন্তে তাঁর কর্মস্থলে কাজ করতে পারবেন। আজ মনে পড়ে সেই বয়োবৃদ্ধ নারীর কথা, যাঁকে বৃদ্ধাশ্রমের একটি গেটের সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকজন বেঁধে রেখেছিল। সেই মায়ের প্রতি আমরা জানাতে চাই, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন করা হবে।’
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আজ মনে পড়ে সেই হতভাগা গৃহিণীর কথা, যিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। কেন? কারণ ছেলেমেয়েদের তিনি অন্নসংস্থান করতে পারেন না। আমরা নারী সাপোর্ট সেল গড়ে তুলব। উদ্যোক্তা নারীদের আর্থিক ও দক্ষতা সহায়তা প্রদান করব। আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীর কর্মস্থান বাড়ানো হবে। সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অবশ্যই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আলোচকরা এই এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছেন। আমরা শুনেছি। আমরা সবাই জানি এবং পরিবেশ সম্পর্কে, পরিবহন খাত সম্পর্কে, আরো বিভিন্ন সমস্যার সুনির্দিষ্ট সমাধান সুপরিকল্পিতভাবে ইশতেহারে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা একে অপরের কথা শুনেছি, বুঝেছি। আরো শুনব এবং আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি সমস্যার সমাধান যতটুকু সম্ভব লাঘব করার চেষ্টা করব।






