বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু: নওগাঁয় সতর্কতা

নিপাহ ভাইরাসে সতর্ক বাংলাদেশ, WHO বলছে বৈশ্বিক ঝুঁকি কম

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশে আবারও নিপাহ ভাইরাস (NiV) সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এটি দেশে প্রথম নিশ্চিত নিপাহ কেস এবং প্রথম মৃত্যু।

নিপাহ ভাইরাস একটি মারাত্মক জুনোটিক রোগ, যা প্রধানত ফলবাদুড় থেকে মানুষে সংক্রমিত হয় এবং বাংলাদেশে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি নিয়মিত ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি (IHR) জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট WHO-কে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় সংঘটিত একটি নিশ্চিত নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য জানায়। আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন নারী। তিনি ২১ জানুয়ারি থেকে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী কাঁপুনি, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা, বমি, অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, বিভ্রান্তি এবং খিঁচুনির মতো গুরুতর উপসর্গে ভুগছিলেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ২৯ জানুয়ারি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীর কোনো সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা ফলবাদুড় দ্বারা দূষিত হয়ে নিপাহ সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত।

রোগীর সংস্পর্শে আসা মোট ৩৫ জনকে শনাক্ত করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এদের সকলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সবাই নিপাহ ভাইরাসে নেগেটিভ পাওয়া গেছে। নতুন করে কোনো সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে চারটি ল্যাব-কনফার্মড মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট হয়েছিল। ফলে চলতি বছরের প্রথম কেসটি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে পুনরায় সতর্ক অবস্থানে রেখেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হলেও WHO জানিয়েছে, বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারির ঝুঁকি কম। কারণ নিপাহ ভাইরাস সাধারণত সীমিত পরিসরে ছড়ায় এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ মূলত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি দেশে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং জোরদার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জনগণকে কাঁচা খেজুরের রস পান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে শীত মৌসুমে। পাশাপাশি ফল ভালোভাবে ধুয়ে ও ছাল ছাড়িয়ে খাওয়া, হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা এবং জ্বর বা স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিকেই সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।