নির্বাচন ও গণভোটে যানবাহন চলাচলে ২৪ ঘণ্টা নিষেধাজ্ঞা

প্রবাসী যাত্রীদের বিমানবন্দর যাতায়াতে বিশেষ ছাড়!
টুইট ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশে যানবাহন চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ নির্দেশনা দেয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা সারা দেশে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
যেসব যানবাহন চলাচল বন্ধ
নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের আগের রাত থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা ৭২ ঘণ্টা।
এই বিধিনিষেধ সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুসারে জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড়
সরকারি নির্দেশনায় প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। পাসপোর্ট, বৈধ বিমান টিকিট ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র দেখাতে পারলে বিমানবন্দর যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না। বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
যেসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে যান চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে-
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যানবাহন।
জরুরি সেবা, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সংবাদপত্র বহনকারী যান।
দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন ও স্থানীয় জরুরি প্রয়োজনীয় চলাচল।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও নির্ধারিত স্টিকার সাপেক্ষে একটি করে ছোট যান (জিপ/কার/মাইক্রোবাস)।
সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অনুমোদিত যানবাহন ও মোটরসাইকেল।
টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখতে বিটিআরসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন।
কোথায় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে
সরকার জানিয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা এবং আন্তজেলা ও মহানগর প্রবেশ-প্রস্থান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে, যাতে জরুরি সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
এছাড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় বিধিনিষেধ আরও কঠোর বা শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন।
যাত্রীদের প্রতি আহ্বান
নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আগাম যাত্রা পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রী ও জরুরি ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকার বলছে, নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতেই এই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সূত্র: সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রজ্ঞাপন, ecs.gov.bd, rthd.gov.bd, BSS






