৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি মানুন, নইলে দায় সরকারের

ইনকিলাব মঞ্চের হুঁশিয়ারি: ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি না মানলে রাজনৈতিক দায় সরকারের।
টুইট ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক লাইভ ও প্রকাশিত পোস্টে সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, সরকারকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির পূর্ণ রাজনৈতিক দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ সংঘাত নয়, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথেই অটল রয়েছে।
বক্তব্যে যমুনার সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের অতর্কিত হামলার অভিযোগ তোলা হয়। দাবি করা হয়, কোনো উসকানি ছাড়াই লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের জন্য জাতিসংঘের অধীনে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং তদন্ত ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সরকারকে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাতে হবে এবং তদন্তে পরিকল্পনাকারী, সহযোগী ও বিদেশে পলাতক সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ওএইচসিএইচআরসহ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে এবং কোনোভাবেই তা বানচাল করতে দেওয়া হবে না। জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে একটি ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সবাইকে সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ অবস্থানে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পুলিশের হামলার ধরনকে ‘ফ্যাসিবাদী সময়ের’ পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চ একটি অভ্যুত্থান-অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। সংগঠনটির সাবেক মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হত্যার শিকার হন। এর বিচার দাবিতে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গুলি চালানো হয়নি এবং ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘে চিঠি পাঠানো হবে।
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইনকিলাব মঞ্চ সরকারকে চাপ দিচ্ছে বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নে, তবে একই সঙ্গে তারা নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।






