ইনকিলাব মঞ্চ–পুলিশ সংঘর্ষে উত্তপ্ত রাজধানী

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনা অভিমুখে মিছিল ঠেকাতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস; আহত অন্তত ৩০–৪০ জন, মোতায়েন বিজিবি।

টুইট প্রতি‌বেদক: আজ শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানী ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

সংঘর্ষে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ও সংগঠনের একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা রয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে কোনো ধরনের গুলি ব্যবহার করা হয়নি; তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এর ফলে শাহবাগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ছয়টি প্লাটুন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। যমুনা, কাকরাইল ও শাহবাগ এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)সহ বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন বলছে, আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, শাহবাগ অবরোধ এখনো আংশিকভাবে চলছে, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।