রাজশাহীতে তিনজনের রহস্যজনক মৃ/ত্যু

মা/দক ‘কট’ নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধোপাঘাটা বাজার ও আশপাশের এলাকায় নেশাজাতীয় মাদক অ্যালকোহল (কট) সেবনে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে এ এলাকায় অন্তত ৮ থেকে ১০ জন মাদকসেবীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে কট সেবন করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ধোপাঘাটা বাজারে অতিরিক্ত কট সেবনের ফলে চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ধোপাঘাটা গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে বুলবুল হোসেন (২৬) একজন পেশাদার কট ব্যবসায়ী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপর তিনজন হলেন— ধোপাঘাটা গ্রামের পিন্টু (৫৫), মৌপাড়া গ্রামের মৃত নাজিবুর রহমানের ছেলে শাহিন আলম (৪৬) এবং পার্শ্ববর্তী পবা উপজেলার মাধায়পাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হবি। এ তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যান।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কট ব্যবসায়ী বুলবুল হোসেনের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, ব্যবসার পাশাপাশি নিজেও কট সেবনের ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও ধোপাঘাটা বাজার এলাকায় অতিরিক্ত মাদক সেবনে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বাগমারা উপজেলার কুমানিতলা গ্রামে একজন এবং বুধবার সকালে মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের নোনাভিটা গ্রামের একটি পুকুর থেকে লালু নামের এক মাদকসেবীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শুক্রবার সকালে মেডিকেল রিপোর্টে হার্ট ফেইলিউরকে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আখতার জানান, এর আগেও ওই এলাকায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আবারও একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হলেও নিহতদের পরিবার সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবেন।

এদিকে ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত মাদক কারবার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।