মাইক্রোসফট–মেটার এআই বাজেট বিস্ফোরণ: লাভ নাকি ভবিষ্যৎ বিপর্যয়

বিগ টেক কোম্পানিগুলো এআই বাজেটের ‘মার্ডার মিস্ট্রি’র মঞ্চ তৈরি করছে।
টুইট প্রতিবেদক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে লাগামহীন ব্যয়ের পরিণতি একদিন বিনিয়োগকারীদের সামনে ‘মার্ডার মিস্ট্রি’র মতো হাজির হতে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছে রয়টার্স ব্রেকিংভিউজ। মাইক্রোসফট ও মেটা প্ল্যাটফর্মসের সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ ব্যয় পরিকল্পনা এই ‘হোয়াডানিট’ (কে করেছে?) নাটকের মঞ্চ প্রস্তুত করে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফলে মাইক্রোসফট ও মেটা জানায়, তারা সার্ভার, চিপ ও এআই অবকাঠামোতে সম্মিলিতভাবে ৫২ বিলিয়ন ডলারের মূলধন ব্যয় (ক্যাপেক্স) করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব্যয় আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। এই দ্রুতগতির ও বিশাল ব্যয় বৃদ্ধি এআই খাতে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য
মাইক্রোসফট ও মেটার সম্মিলিত আয় বেড়েছে ২৩ বিলিয়ন ডলার। মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা এবং মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গ এআই দৌড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জুকারবার্গ এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, “সুপারইন্টেলিজেন্স এখন দৃষ্টিগোচর।” এই দুই প্রযুক্তি নেতাই মানুষের চেয়ে উন্নত সিলিকন বুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
মেটার বিশাল ব্যয় পরিকল্পনা
মেটা প্ল্যাটফর্মস ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (ক্যালেন্ডার অনুসারে) রাজস্বে ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বাজারের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। একই প্রান্তিকে কোম্পানিটির ক্যাপেক্স ছিল ২২.১ বিলিয়ন ডলার।
২০২৬ সালের জন্য মেটা ক্যাপেক্স নির্ধারণ করেছে ১১৫ বিলিয়ন থেকে ১৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের ৭২.২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই অর্থ ব্যয় করা হবে মূলত ডেটা সেন্টার, সার্ভার ও এআই অবকাঠামোতে, যাতে “পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স” লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়।
মেটার এই বিপুল ব্যয় পরিকল্পনার পেছনে শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে তাদের বিজ্ঞাপন ব্যবসা। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে মেটার বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয়েছে ৫৮.১৪ বিলিয়ন ডলার।
মাইক্রোসফটের অবস্থান
মাইক্রোসফটও এআই খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক প্রান্তিকে কোম্পানিটির ক্যাপেক্স বৃদ্ধি পেয়েছে মূলত এআই অবকাঠামো ও অ্যাজুর ক্লাউড সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য। তবে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—এই ব্যয়ের গতি কি আদৌ রাজস্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন
রয়টার্স ব্রেকিংভিউজের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এআই খাতে এই অতিরিক্ত ব্যয় একদিন ‘অসীমিত ব্যয়ের লাশ’ তৈরি করতে পারে। বিনিয়োগকারীদের প্রধান প্রশ্ন—এই বিপুল বিনিয়োগের প্রকৃত রিটার্ন কবে পাওয়া যাবে? আর যদি ব্যয় অতিরিক্ত হয়ে পড়ে, তবে এই ‘হত্যা’র দায় কার ওপর পড়বে?
শেয়ারবাজারের প্রতিক্রিয়াও ইঙ্গিতবহ। মেটার শেয়ার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সংশয় ও উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিগ টেক কোম্পানিগুলোর এআই দৌড় আপাতত থামার কোনো লক্ষণ নেই। তবে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে—তা এখনও অনিশ্চিত। অনেকেই মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে একটি বড় আর্থিক ও কৌশলগত সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে।






