ইলহান ওমরের অভিযোগ: ট্রাম্পের বক্তব্যই আমার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ

হামলার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের ‘বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা’ রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যের।
টুইট প্রতিবেদক: মার্কিন কংগ্রেস সদস্য প্রতিনিধি ইলহান ওমার (ডেমোক্র্যাট–মিনেসোটা) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুরুতর ও তীব্র অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের “অস্বাস্থ্যকর ও অদ্ভুত আসক্তি” এবং বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের কারণেই তাকে এখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যয় বহন করতে হচ্ছে এবং সরকারকেও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে।
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, মিনিয়াপোলিসে আয়োজিত একটি টাউন হল ইভেন্টে ইলহান ওমারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী হিসেবে অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাক নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়, যার অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প-সমর্থক পোস্টের তথ্য পাওয়া গেছে।

ছবি: সংগৃহিত, এপিপি
হামলাকারী সিরিঞ্জের মতো কোনো বস্তু দিয়ে অজানা তরল ওমারের দিকে নিক্ষেপ করে। তবে তিনি অক্ষত থাকেন এবং কর্মসূচি চালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই হামলাকারীকে আটক করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে এফবিআই তদন্ত করছে।
হামলার আগে ট্রাম্পের বক্তব্য
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে আইওয়ায় এক সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলহান ওমারের নাম উল্লেখ করে অভিবাসন ইস্যুতে বক্তব্য দেন। সে সময় তিনি বলেন, অভিবাসীদের দেশকে ভালোবাসতে হবে—“ইলহান ওমারের মতো নয়।”
ওমারের বক্তব্য
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ এক সংবাদ সম্মেলনে ইলহান ওমার বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় না থাকলে এবং তিনি যদি আমার প্রতি এতটা আসক্ত না হতেন, তাহলে আজ আমাকে নিজের নিরাপত্তার জন্য টাকা খরচ করতে হতো না, সরকারকেও আমার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হতো না।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিবার প্রেসিডেন্ট আমার ও আমি যে কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করি, তাদের নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন, তখনই আমার বিরুদ্ধে মৃত্যুহুমকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।”
হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “হামলার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমাকে নিয়ে কথা বলছিলেন। অথচ পরে বলেছেন—‘আমি তার কথা ভাবিই না।’ তিনি কি তাহলে মনে করতে পারছেন না? নাকি তিনি স্মৃতিভ্রংশে ভুগছেন?”
ওমার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘hateful rhetoric’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, এসব বক্তব্যই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করছে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
হামলার পর ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন, “না, আমি তার কথা ভাবি না। আমি মনে করি সে একজন প্রতারক।”
তিনি আরও বলেন, “জানলে অবাক হবো না, যদি সে নিজেই এসব করিয়ে থাকে।”
ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি হামলার ভিডিও দেখেননি এবং পুরো ঘটনাকে ‘staged’ বলে উড়িয়ে দেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে (২০২৫–২০২৬) মিনেসোটায় অভিবাসন নীতি, বিশেষ করে সোমালি কমিউনিটি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার ইলহান ওমারকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন, যেগুলোর কোনোটি এখনো প্রমাণিত হয়নি। ওমার এসব অভিযোগকে মিথ্যা, বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা বলে দাবি করেন।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাব ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে—ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






