ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলে জাইকার মানবিক ক্রীড়া উৎসব

মাইলস্টোন স্কুলে ক্রীড়া উৎসব। মানসিক আঘাত কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে উদ্যোগ
টুইট ডেস্ক: জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর আয়োজনে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ক্রীড়া উৎসব।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল—বিমান দুর্ঘটনাজনিত ট্র্যাজেডির পর শিক্ষার্থীদের মানসিক আঘাত কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক স্কুল জীবনে ফিরতে সহায়তা করা।
থেরাপিউটিক ও কমিউনিটি সংহতি জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিল মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ। আয়োজনে সহযোগিতা করে জাপানের এমইউএফজি ব্যাংক ও একমাত্রা সোসাইটি।
উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম। তার উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলা ও দলগত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২১ জুলাই ২০২৫-এ মাইলস্টোন স্কুল ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হন (যার মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী)।বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর মানসিক প্রভাব পড়ে। ঘটনার পরবর্তী কয়েক মাসে প্রায় একশ শিক্ষার্থী অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং স্কুলের সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কাউন্সেলিং সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক স্মৃতি তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে জাইকা ও সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা।
এই প্রেক্ষাপটে ক্রীড়া উৎসবটি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় পরিবেশ তৈরি, পারস্পরিক সহমর্মিতা জাগ্রত এবং মানসিক পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে আয়োজকরা মনে করছেন। সংকটকালে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে এটি একটি মডেল কার্যক্রম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিকেএসপি’র প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহিম নিজের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে অনুপ্রাণিত করেন। উল্লেখ্য, জাইকা দীর্ঘদিন ধরে বিকেএসপি’র সঙ্গে কাজ করে আসছে এবং ক্রীড়া উন্নয়নে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন জাপান ওভারসিস কো-অপারেশন ভলান্টিয়ার পাঠিয়েছে।
দুর্ঘটনার পরবর্তী মাসগুলোতে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং স্কুলের সঙ্গে সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কাউন্সেলিং-এর পাশাপাশি ইতিবাচক স্মৃতি তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে জাইকা এই ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন করে।
ক্রীড়া উৎসবে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক অংশগ্রহণ করেন। খেলাধুলার পাশাপাশি এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলকে আবার একটি নিরাপদ ও আনন্দের জায়গা হিসেবে অনুভব করার সুযোগ তৈরি করে।








