বান্দরবান পাহাড়ে উন্নয়ন–শান্তির প্রতিশ্রুতিতে জমে উঠেছে নির্বাচনী রাজনীতি

ছবি: নিজস্ব

বান্দরবান–৩০০ আসনে প্রচারণা তুঙ্গে, পাহাড়ি জনপদে রাজনীতির উত্তাপ।

বান্দরবান থেকে অসীম রায় (অশ্বিনী): পার্বত্য জেলা বান্দরবানের একমাত্র সংসদীয় আসন বান্দরবান–৩০০-এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সব প্রার্থী মাঠে নেমে পড়েছেন। পাহাড়ি জনপদ থেকে শহর, বাজার-পাড়া-মহল্লা—সবখানেই চলছে গণসংযোগ, মতবিনিময় ও মাইকিং।

পাহাড়ি ও বাঙালি ভোটারদের কাছে উন্নয়ন, শান্তি-সম্প্রীতি, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবার প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। প্রচারণা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ রয়েছে। কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর তারা পাননি।

বান্দরবান–৩০০ আসনের গুরুত্ব

ভৌগোলিকভাবে দুর্গম, বহুজাতিক ও বহু সংস্কৃতির মানুষের বসবাস এই আসনে। বান্দরবান সদর, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, লামা ও আলীকদম—এ ছয়টি উপজেলাকে নিয়ে গঠিত আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপত্তা, পাহাড়ি শান্তি-সম্প্রীতি, ভূমি বিরোধ, যোগাযোগ অবকাঠামো, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণ—এসব ইস্যু এখানে জাতীয় নীতিনির্ধারণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে বান্দরবান–৩০০ আসনের প্রতিনিধি কেবল স্থানীয় নয়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

বিএনপি প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরি (ধানের শীষ)

প্রচারণার পথম দিন থেকে রোয়াংছড়ি উপজেলার সদর ও আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরি। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তিনি বাজার, পাড়া-মহল্লা ও সড়কে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” তার প্রচারণায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। স্থানীয় ভোটাররা দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ (হাত পাখা)

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ বান্দরবান সদর, রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাইকিং ও দোকান-বাজারে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। তার প্রচারণায় ইসলামী মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পাহাড়ি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের অঙ্গীকার তুলে ধরা হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন (শাপলা কলি)

এনসিপির প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই সক্রিয়। বান্দরবান সদর, লামা ও আলীকদম উপজেলায় তিনি গণসংযোগ করছেন। তার প্রচারণার মূল বার্তা নাগরিক অধিকার, যুবকদের কর্মসংস্থান, পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। প্রচারণায় তরুণদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টি প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ (লাঙ্গল)

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় মাইকিং, গান ও ব্যানার নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি জাতীয় পার্টির উন্নয়নমুখী নীতি, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। স্থানীয় বাজার ও চায়ের দোকানকেন্দ্রিক প্রচারণায় ভোটারদের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

সব প্রার্থীই পাহাড়ি অঞ্চলের বিশেষ সমস্যা—যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিরসন, শান্তি-সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, বান্দরবান–৩০০ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নির্বাচন হওয়ায় তারা আশাবাদী। তাদের প্রত্যাশা—যে প্রার্থীই নির্বাচিত হোন, তিনি যেন পাহাড়ের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখেন এবং জাতীয় পর্যায়ে বান্দরবানের স্বার্থ জোরালোভাবে তুলে ধরেন।