বান্দরবান ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র নিয়ে অনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

অসীম রায় (অশ্বিনী), বান্দরবান: বান্দরবান জেলা প্রশাসকের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র (কমপ্লেক্স) নিয়ে অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র কমপ্লেক্সের লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ ইউনুছ।

তিনি অভিযোগ করেন, পটিয়া আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদরাসার পরিচালক পরিচয়দানকারী মৌলভী আবু তাহের জেলা প্রশাসকের আদেশ অমান্য করে একতরফাভাবে বৈঠক আয়োজন করে অনধিকার চর্চার মাধ্যমে আমেলা ও এমদাদিয়া কমিটি গঠন করেছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২২ জানুয়ারি ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের একটি নির্ধারিত সভা পরবর্তীতে আয়োজনের নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসক তা স্থগিত করেন। কিন্তু ওই আদেশ উপেক্ষা করে একই দিনে মৌলভী আবু তাহের বান্দরবানের অন্য একটি স্থানে একতরফাভাবে সভা করে বিতর্কিত একটি কমিটি গঠন করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওই বৈঠকে আওয়ামী দোসর ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা। এ বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার কথা বলে তাকে বান্দরবান শহরের অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, “মৌলভী আবু তাহের যদি তার দাবিতে সত্যবাদী ও নৈতিক সাহসসম্পন্ন হতেন, তাহলে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই তাঁর কার্যালয়ে বৈঠক করতেন অথবা সরাসরি ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রে এসে আলোচনায় বসতেন।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে পটিয়া আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনটি মামলা চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদালত ও পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ কিংবা কমিটি গঠন আদালত অবমাননার শামিল বলেও দাবি করা হয়।

এ সময় মৌলভী আবু তাহের পটিয়া আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদরাসার বৈধ পরিচালক কিনা—এ নিয়েও গুরুতর বিতর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। একতরফা ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুধু ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র নয়, পটিয়া আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদরাসার সুনাম ও ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন প্রতিষ্ঠান পরিচালক।

তিনি এসব অনধিকার চর্চা ও হুকুমিমূলক কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ইসহাক, এইচ. এম. আবদুস সালাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আনোয়ারসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে বান্দরবানের ধর্মপ্রাণ ও শিক্ষানুরাগী জনগণের সহযোগিতায় শাইখুল আরব ওয়াল আজম আল্লামা হযরত ইউনুছ আব্দুল জাব্বার (রহ.) ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। সাবেক জেলা প্রশাসক নাজমুল আলম ছিদ্দিকী ও কে. এস. প্রু ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা।

বর্তমানে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা বোর্ড (বেফাকুল মাদারিস)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।