পে স্কেল কমিশনের সভা শেষ: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর

- ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন শতভাগ (দ্বিগুণ) বাড়ানোর প্রস্তাব।
- ২০–৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ৭৫% বৃদ্ধি।
- ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ৫৫% বৃদ্ধি।
- ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা।
- ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব।
- প্রস্তাবিত পে স্কেলে ২০তম গ্রেডে বেতন ২০ হাজার এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
টুইট প্রতিবেদক: নবম জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধার সুপারিশ করা হয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ: স্তরভিত্তিক হার
সভা সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলে পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন আয়ের স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে যারা মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতকরা ১০০ (দ্বিগুণ) বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সুপারিশগুলো দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে কমিশনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চিকিৎসা ভাতায় বৃদ্ধি: প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা
পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বৃদ্ধিটি বিশেষ করে বয়স্ক পেনশনভোগীদের চিকিৎসা খরচের বোঝা কমাতে সাহায্য করবে।
সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষা
কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, এসব সুপারিশ পে কমিশনের প্রতিবেদন হিসেবে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। তারপর যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন পেনশন ও বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
এই সিদ্ধান্তগুলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।






