বাংলাদেশের জন্য তেলের মজুদ বাড়ানো এখনই সময়

কম দামে তেল কেনা এবং স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ তৈরি করে দেশের এনার্জি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ।
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের এনার্জি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ তৈরি করা অপরিহার্য।
বর্তমানে আজ (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দাম কমে প্রায় Brent crude ৬৩–৬৫ ডলার প্রতি ব্যারেল নেমেছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত সরবরাহ (supply glut) চলছে এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি সামান্য কমেছে। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য মজুদ বাড়ানোর সেরা সুযোগ তৈরি করছে।
বর্তমান অবস্থায় দেশের তেল স্টোরেজ ক্ষমতা প্রায় ১.৫–১.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা জাতীয় চাহিদার মাত্র ৪৫–৬০ দিন কভার করে। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে অন্তত ৯০ দিনের স্ট্র্যাটেজিক স্টক থাকা উচিত। বাংলাদেশ ৯০% এর বেশি তেল আমদানি করে, তাই সরবরাহ ব্যাহত হলে দাম আকাশছোঁয়া হবে এবং অর্থনীতি থমকে যেতে পারে।
সরকারের Energy and Power Master Plan 2026-2050-এ স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ তৈরি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬-এর আমদানি প্ল্যানে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ক্রুড ও পরিশোধিত তেল কেনা হচ্ছে, যেখান থেকে অতিরিক্ত ক্রয় করে মজুদ বাড়ানো সম্ভব। ERL Unit-2 এবং অন্যান্য রিফাইনারি সম্প্রসারণ প্রকল্প চলায় স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়বে।
চ্যালেঞ্জ রয়েছে—ডলার সংকট, রিজার্ভ সীমিত এবং নতুন ট্যাঙ্ক ও নিরাপত্তা প্রয়োজন। তবে এই কম দামের উইন্ডো মিস করলে ভবিষ্যতে খরচ অনেক বেশি হবে। তাই সরকারকে এখনই স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ পলিসি ঘোষণা করে ৩–৬ মাসের টার্গেট নির্ধারণ করা উচিত।
সারকথা, দাম কম, বাজার স্থিতিশীল, এবং দেশের এনার্জি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে—এই মুহূর্তে মজুদ বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য একদম সঠিক এবং জরুরি পদক্ষেপ।






