আসনসংকটে রাজশাহী চরাঞ্চলে ১২৪ শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক শিক্ষা অনিশ্চিত

দুটি স্কুলে জায়গা নেই, দীপচর আষাড়িয়াদহে থমকে যাচ্ছে ১২৪ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দীপচর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১২৪ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকায় থাকা মাত্র দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আসনসংকটের কারণে তারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না।

পদ্মা নদীর ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মোট আটটি। এসব বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীরা সাধারণত দিয়াড়মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয় ও চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। তবে চলতি বছর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করায় সংকট তৈরি হয়েছে।

দিয়াড়মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি এবং চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দুটি শাখা থাকায় সর্বোচ্চ ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া সম্ভব। অথচ দুটি বিদ্যালয়ে মোট আবেদন জমা পড়ে ২৮৯টি। ফলে ১২৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাহারা খাতুনের বাবা শাহাদত হোসেন বলেন, “লটারিতে মেয়ের নাম ওঠেনি। নদীর ওপারে পাঠানোর সামর্থ্যও নেই। এখন মেয়ের পড়াশোনা কীভাবে চলবে জানি না।” একই দুশ্চিন্তার কথা জানান ব্যবসায়ী চাহারুল ইসলাম ও নেসার আলী। তাদের আশঙ্কা, ভর্তি না হলে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

দিয়াড়মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, আগে নিয়ম শিথিল থাকলেও এবার শিক্ষা বোর্ড কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। তিনি শাখা বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন, তবে চলতি শিক্ষাবর্ষেই অনুমোদন মিলবে কি না তা অনিশ্চিত। চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজগর আলীও একই ধরনের সীমাবদ্ধতার কথা জানান।

এ বিষয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আ. ন. ম. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, চর আষাড়িয়াদহে ভর্তিজটিলতার বিষয়টি তিনি অবগত। বিদ্যালয়গুলো শাখা বৃদ্ধির জন্য আবেদন করলে বোর্ড দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে মতামত দেবে। এতে আশা করা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষেই নতুন শাখা খুলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া সম্ভব হবে।