বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলি

চাঁদা না পাওয়ার জেরে দুই রাউন্ড গুলির অভিযোগ, হতাহতের খবর নেই।
টুইট ডেস্ক: রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলির ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলমান প্রচারণার মধ্যে এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে ঢাকার বাড্ডায় অবস্থিত নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিস, যা একই সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদা না পাওয়ার জের ধরে এই গুলির ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি চাঁদাবাজি সংক্রান্ত হতে পারে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অফিসে উপস্থিত কেউ গুলিবিদ্ধ হননি বা প্রাণহানি ঘটেনি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক হামলা নয়। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাটি চাঁদাবাজি সংক্রান্ত এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ছিলেন। বর্তমানে তিনি এনসিপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ একাধিক প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে লুণ্ঠিত অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলির ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি ও নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।






