বান্দরবান-৩০০: সম্পদ ও আয়ে কে কতটা এগিয়ে

সম্পদে শীর্ষে জামায়াত প্রার্থী, সম্পদশালী বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রী। বান্দরবানে পাঁচ প্রার্থীর আয়-সম্পদের চিত্র প্রকাশ।
অসীম রায় (অশ্বিনী), বান্দরবান: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান (৩০০) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা পাঁচ প্রার্থীর আয় ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় ও সম্পদের মালিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবুল কালাম। আর বিএনপি প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরীর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবুল কালাম পেশায় একজন আইনজীবী। আইন পেশা, কৃষি, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৮৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ সুজাউদ্দিন শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক (সম্মান) এবং পেশায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। সাংবাদিকতা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা, অন্যান্য খাত থেকে আয় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নগদ অর্থ ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৮৫ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি মাইক্রোবাসসহ মোট সম্পদের পরিমাণ ৮১ লাখ ৩১ হাজার ৪৪১ টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার ব্যাংকঋণ রয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরী শিক্ষাগত যোগ্যতায় এইচএসসি পাস এবং পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
২০১৮ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল সাড়ে ৩ লাখ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে সাড়ে ৫ লাখ টাকা হয়েছে।
অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ২০১৮ সালে নগদ ছিল ২ লাখ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা হয়েছে। একইভাবে, অর্জনকালীন স্থাবর সম্পদ ছিল সাড়ে ৩ লাখ টাকা, যার বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা।
সাচিংপ্রু জেরীর স্ত্রী মমচিং পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বর্তমান বাজারমূল্যে অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর অর্জনকালীন মূল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নগদ ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাডো গাড়ি, সাড়ে ৪ লাখ টাকার একটি ট্রাক, সাড়ে ৫ লাখ টাকার একটি ভলবো গাড়ি, এক ভরি স্বর্ণালংকার।
সাচিংপ্রু জেরী বোমাং রাজপরিবারের সদস্য। রাজপরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের বড় একটি অংশ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত।
ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের সম্পদ তুলনামূলক কম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ শিক্ষাগত যোগ্যতায় দাওরায়ে হাদিস এবং পেশায় ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৪৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা। তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর নামে কোনো আয় বা সম্পদ নেই।
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মো. ওয়ালী উল্লাহ। ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৮ টাকা। তাঁর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ১৫ লাখ টাকা। তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর নামেও কোনো আয় বা সম্পদ দেখানো হয়নি।
নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের আয়-সম্পদের এই চিত্র ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বান্দরবানের ভোটাররা এখন দেখছেন—কার সম্পদ কত, কীভাবে বেড়েছে, এবং কে কতটা আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থানে থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।






