ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: মাদুরো আটক, তবু ক্যাবিনেট বহাল

ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট, নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীতে কাবেলো–পাদ্রিনোর দাপট।

বিশ্ব ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও আটক হলেও তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের নেতৃত্বে ক্যাবিনেট ও নিরাপত্তা কাঠামো এখনও টিকে আছে। ফলে দেশটিতে কার্যত একটি অন্তর্বর্তীকালীন ও অনিশ্চিত ক্ষমতার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

সূত্র মতে, জুলাই ২০২৪-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদলের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ (বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর সমর্থিত) বিপুল ভোটে জয়ী হন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিরোধীরা নির্বাচনকে জালিয়াতিপূর্ণ বলে দাবি করে। এর পরও মাদুরো ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেন।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্যারাকাসে হামলার পর মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও ‘নারকো-টেররিজম’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “নিরাপদ রূপান্তর না হওয়া পর্যন্ত” যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনায় সহায়তা করবে।

তবে ক্যারাকাসে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে মাদুরোর অনুগতরা এখনও সক্রিয়। উপ-রাষ্ট্রপতি ও তেলমন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। প্রথমে তিনি মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা করলেও পরবর্তীতে স্থিতিশীলতা ও তেল শিল্প সংস্কারের স্বার্থে সহযোগিতার সুর নেন। তার ভাই জর্জ রদ্রিগেজ জাতীয় অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রভাব ধরে রেখেছেন।
অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন—যদিও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ।

অপরদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর প্রধান ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন এবং মাদুরো ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত।
এই শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানিয়ে সরকারের ধারাবাহিকতা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীলতা রক্ষায় ও তেল খাত সংস্কারে এই বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে কাজ করছে—এমন ইঙ্গিত মিলছে। তবে বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো (২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত) ও অন্যান্য বিরোধী শক্তি এখনও ক্ষমতার বাইরে; ট্রাম্প প্রশাসন তার সঙ্গে কাজ করতে অনিচ্ছুক বলে জানা যাচ্ছে।

রয়টার্সের অ্যান্ডিয়ান ব্যুরো চিফ জুলিয়া সিমস কব-এর একটি পডকাস্টে বলা হয়েছে, মাদুরোর পতন সত্ত্বেও রদ্রিগেজ, কাবেলো ও পাদ্রিনো লোপেজ প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।

ফলে এটি একটি রূপান্তরকালীন পরিস্থিতি—যেখানে মার্কিন চাপে সীমিত সহযোগিতা শুরু হলেও পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবর্তন এখনও অনিশ্চিত।

এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া বিভক্ত। রাশিয়া ও চীন এই ঘটনাপ্রবাহের নিন্দা জানিয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ পথচলা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র: রয়টার্স