যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

নির্বাচন, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট ও ভিসা বন্ডসহ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা।
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট (পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স) অ্যালিসন হুকার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
বৃস্পতিবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।
আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তুলে ধরেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। জবাবে অ্যালিসন হুকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বাণিজ্য প্রসঙ্গে এনএসএ জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করতে এবং সম্ভব হলে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক (বি-১) ভিসাকে ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানান। অ্যালিসন হুকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে পর্যটকদের ওভারস্টে উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে বন্ড নীতিমালা পর্যালোচনার ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. রহমান বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন। বৃহত্তম দাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা উল্লেখ করে অ্যালিসন হুকার বাংলাদেশ যে বড় বোঝা বহন করছে তার প্রশংসা করেন এবং সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে দায়ভার ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানকালীন রোহিঙ্গাদের জীবিকায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
এনএসএ ড. রহমান বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (DFC) অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং দেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেন। যুক্তরাষ্ট্র এসব প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেয়। তিনি গাজায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশগ্রহণে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহও জানান; এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন অ্যালিসন হুকার।
অন্যদিকে, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস) মাইকেল জে. রিগাস শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাস কর্মকর্তারা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “বাংলাদেশের উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে।”
সব কর্মসূচিতে এনএসএ ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







