মনোনয়ন বাতিলে পাল্টাচ্ছে ভোলার রাজনীতি

ভোলার চার আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মনোনয়ন বাতিল ও রাজনৈতিক উত্তাপ।

টুইট প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বীপজেলা ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। ৩১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে চারটি আসনে মোট ৩১ জন প্রার্থী (একজন নারীসহ) মনোনয়ন জমা দেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ভোলা-২ আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হওয়ায় প্রার্থীদের প্রচারণা এখন পুরোদমে চলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব এবারের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভোলা জেলায় মোট ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৭২টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৭ জন। নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। উল্লেখযোগ্যভাবে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, যা এই নির্বাচনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

আসনভিত্তিক প্রার্থী ও রাজনৈতিক চিত্র

ভোলা-১ (সদর)

এই আসনে বিএনপির জেলা আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র গোলাম নবী আলমগীর প্রধান প্রার্থী। জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবায়দুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থও আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপির ঘাঁটি হলেও ভোট বিভাজনের শঙ্কা রয়েছে।

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন–দৌলতখান)

এই আসনে যাচাই-বাছাইয়ে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি আলহাজ্ব মো. হাফিজ ইব্রাহিম এবং জামায়াতের সাবেক জেলা আমির মুফতি ফজলুল করিম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এখানে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

ভোলা-৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন)

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এই আসনে শক্ত প্রার্থী। জামায়াত সমর্থিত বিডিপির তরুণ নেতা নিজামুল হক নাঈমও আলোচনায়। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসন পুনরুদ্ধারে বিএনপি সক্রিয়।

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা)

এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। বিএনপির নুরুল ইসলাম নয়ন ও জামায়াতের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রত্যন্ত চরাঞ্চল, পর্যটন এলাকা চর কুকরি-মুকরি ও উন্নয়ন ইস্যু এখানে প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দু।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীরা অভিজ্ঞ হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জোট চাপ তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থীরা সংগঠনিক শক্তি ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন কিছু এলাকায় নিজস্ব ভোটব্যাংক ধরে রেখেছে।

“ভোটাররা এবার দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভূমিকা বিবেচনা করবেন।”
আগামী ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

সব মিলিয়ে, ভোলার চার আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভোট বিভাজনই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।