রংপুরে নাগরিকত্ব জটিলতায় বাতিল জাপা প্রার্থীর মনোনয়ন

মনোনয়ন যাচাইয়ে রংপুরে আলোড়ন, জাতীয় পার্টি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল।

আব্দুল্লাহিল মতিন শাহীন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর-১ (গংগাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান এ সিদ্ধান্ত দেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই শেষে রংপুর-১ আসনে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী ছাড়া বাকি আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন সকালে রংপুর-১ এবং বিকেলে রংপুর-২ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুর-১ (গংগাচড়া ও সিটি করপোরেশনের আংশিক এলাকা) আসনে যাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে তারা হলেন বিএনপির মোকারম হোসেন সুজন, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা রায়হান সিরাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান সজিব, বাসদ (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন তিতু, জাতীয় নাগরিক পার্টির আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মমিনুর রহমান এবং ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আনাস।

এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, এবারের নির্বাচনে প্রচলিত বড় দলগুলোর পাশাপাশি আদর্শভিত্তিক ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। ফলে রংপুর-১ আসনে বহুমাত্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. আশরাফ আলী এবং বাসদ (মার্কসবাদী) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে আজিজুর রহমান।

রংপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও জামায়াত প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে নির্বাচনী সমীকরণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে বলেও ধারণা তাদের।

মনোনয়ন বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী বলেন, মনোনয়নপত্র পূরণের সময় একটি ছোট ভুলের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন এবং আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, যাচাই-বাছাইয়ের সময় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনগত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের আপিল করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাচাই-বাছাইয়ের শুরুতেই একটি বড় দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়া নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব ও হলফনামা সংক্রান্ত বিষয়গুলো যে এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও জানান, ধারাবাহিকভাবে জেলার অন্যান্য আসনেও মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে। শুক্রবার সকালে রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) এবং বিকেলে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার সকালে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) এবং বিকেলে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে।

সব যাচাই-বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তি শেষে প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের নির্বাচনী মাঠের চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।