শ্রীলঙ্কায় মৃত ১৫৯, নিখোঁজ ১৯১-এর বেশি; জরুরি অবস্থা জারি

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র তাণ্ডব: মৃত ১৫৯, নিখোঁজ ১৯১-এর বেশি; জরুরি অবস্থা জারি
বিশ্ব ডেস্ক: ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ব্যাপক ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৯ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৯১-এর বেশি মানুষ।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, প্রায় চার লাখ মানুষ এই দুর্যোগে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষকে সরকারি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় আট লাখ মানুষের জরুরি ত্রাণের প্রয়োজন পড়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কুরুনেগালা, অনুরাধাপুরা, পুট্টালাম, কলম্বো ও ক্যান্ডি জেলায়।
কুরুনেগালা জেলায় শনিবার একটি বৃদ্ধাশ্রম বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সেখানে ১১ জন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। অনুরাধাপুরায় বন্যায় আটকে পড়া একটি বাসের ৬৯ জন যাত্রীকে সেনা ও নৌবাহিনী উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে একজন জার্মান পর্যটকও ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী ডব্লিউ এম শান্থা বলেন, “নৌসেনারা রশি দিয়ে আমাদের একটি বাড়ির ছাদে তুলেছিলেন। ছাদের একাংশ ধসে পড়লে তিন নারী পানিতে পড়ে যান। পরে তাদেরও উদ্ধার করা হয়। আমরা বেঁচে ফিরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।”
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রোববার সারাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে পুরোপুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তাও আসতে শুরু করেছে। ভারত ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’-র আওতায় ত্রাণসামগ্রী, এনডিআরএফ টিম ও হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তুরস্ক, ওমান ও জাতিসংঘও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি এখন তামিলনাড়ুর দিকে এগোচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় রবিবারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে, তবে তীব্রতা কিছুটা কমবে।
অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কার জন্য এই দুর্যোগ যেন নতুন এক বিপর্যয়। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।






