ভেনেজুয়েলার আকাশে ইউএসের টানা টহল

ভেনেজুয়েলার আকাশসীমার কাছে ইউএস ওয়ারপ্লেনের অবিরাম টহল—কাউন্টারনারকোটিক্সের আড়ালে তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা!
টুইটনিউজ২৪ ডেস্ক | ৩০ নভেম্বর ২০২৫: ভেনেজুয়েলার আন্তর্জাতিক আকাশসীমার ঠিক বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানগুলোর টানা টহলকে ঘিরে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই টহলকে “কাউন্টারনারকোটিক্স অপারেশন”—ড্রাগ ট্রাফিকিং রোধের অংশ হিসেবে দাবি করলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের উপর সরাসরি চাপ তৈরির কৌশল।
টহলের পেছনের প্রেক্ষাপট
গত কয়েক মাস ধরেই ভেনেজুয়েলাকে ড্রাগ ট্রাফিকিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। নভেম্বরের শুরুতে মাদুরো সরকারের সাথে যুক্ত ‘কার্টেল ডি লস সোলেস’কে “ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন” ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। এর পরপরই ক্যারিবিয়ানে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি দ্রুত বাড়তে থাকে।
আগস্টে শুরু হওয়া “অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার” ড্রাগ কার্টেল দমনের নামে অঞ্চলটিতে শক্ত অবস্থান তৈরির পথ সুগম করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
কোথায়, কীভাবে চলছে মার্কিন টহল
প্রতিবেদন বলছে—অরুবা, কুরাকাও, ট্রিনিদাদসহ ভেনেজুয়েলার FIR অঞ্চলের ঠিক বাইরে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় প্রায় বিরতিহীনভাবে টহল দিচ্ছে মার্কিন বিমান।
এর মধ্যে রয়েছে—
B-52 স্ট্র্যাটোফরট্রেস বোম্বার
F/A-18 সুপার হর্নেট ও F-35 স্টিলথ ফাইটার
P-8 পোসাইডন ম্যারিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট
RC-135 রিভেট জয়েন্ট (ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স)
MQ-9 রিপার ড্রোন ও AC-130 গানশিপ
স্যাটেলাইট ডেটা ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ শুরু থেকে ৩০ নভেম্বর এই টহল কার্যক্রম স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির বিস্তার
টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও স্থলবাহিনীর বড় ধরনের মোতায়েনও নজর কেড়েছে।
বর্তমানে ক্যারিবিয়ানে রয়েছে—USS Gerald R. Ford ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, প্রায় ১২ হাজার নৌসেনা ও ১৫ হাজার অতিরিক্ত সামরিক সদস্য।
পুয়ের্তো রিকোতে রুজভেল্ট রোডস বেস পুনরায় সক্রিয়
CIA–কে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কভার্ট অপারেশন পরিচালনার জন্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি স্পষ্টভাবে “শো অফ ফোর্স”—যা ভবিষ্যৎ সামরিক অ্যাকশনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা: এয়ারস্পেস ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’
২৯ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প Truth Social–এ পোস্ট করে ঘোষণা দেন— “ভেনেজুয়েলার উপরে ও আশেপাশের এয়ারস্পেস সম্পূর্ণ বন্ধ।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো দেশের আকাশসীমা এভাবে ‘বন্ধ’ ঘোষণা করতে পারে না। তবে এই ঘোষণার পর FAA NOTAM জারি করে সতর্ক করে—ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় GPS জ্যামিং এবং মিলিটারি অ্যাকটিভিটি খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর ফলে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিক্রিয়া
কারাকাস এই টহলকে “ঔপনিবেশিক আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী হাই অ্যালার্ট জারি করে উপকূলে সাবমেরিন, ফ্রিগেট ও মিসাইল বোট মোতায়েন করেছে।
রাশিয়া ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলাকে Pantsir-S1 ও Buk-M2E এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে।
মাদুরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ভেনেজুয়েলা আক্রান্ত হলে আমরা ‘রিপাবলিক ইন আর্মস’ ঘোষণা করব।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
রাশিয়া: মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে “অতিরিক্ত ও উস্কানিমূলক” বলে অভিহিত
ইরান: জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
বিশ্লেষকদের মত: সম্ভাব্য “রেজিম চেঞ্জ অপারেশন”, সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি “উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে”।
তবুও কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন—ডিপ্লোম্যাটিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ নয়।






