মাকে নিয়ে তারেক রহমানের আবেগভরা প্রতীক্ষা

মায়ের স্নেহস্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমারও রয়েছে। কিন্তু সবকিছু আমার একক সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

ব‌দিউল আলম লিংকন: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাঁকে ঘিরে চলছে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা, আর বাইরে দেশের কোটি মানুষের দোয়া ও ভালোবাসার অবিরাম স্রোত।

জাতির এই সংকট মুহূর্তে ছেলের হৃদয়ে জমেছে অসীম বেদনা, অস্থিরতা ও আশার আলো—যা উঠে এসেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আবেগঘন বার্তায়।

তারেক রহমান বলেন,
“মা আজ গুরুতর অসুস্থ… তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষ যে দোয়া করছেন, সে জন্য জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা।”
তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস এবং দেশ–বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব তাঁদের পরিবারকে কিছুটা হলেও আশান্বিত করছে।

কিন্তু ছেলের হৃদয়ের যন্ত্রণা কোনো শব্দে পুরোটা ধরা যায় না। মাকে ছুঁয়ে দেখা, হাতটা ধরে বলা—“মা, আমি পাশে আছি”—এই সহজ মানবিক আকাঙ্ক্ষাটুকুও এখন তাঁর জন্য অসম্ভব।

তাই তারেক রহমানের কণ্ঠে যেন চাপা দীর্ঘশ্বাস—
“মায়ের স্নেহস্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমারও রয়েছে। কিন্তু সবকিছু আমার একক সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক সীমাবদ্ধতা আছে যেগুলো নিয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগও নেই।”

এরপরও তিনি আশা হারাতে চান না। বিশ্বাস করেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলেই স্বদেশের মাটিতে ফিরতে পারবেন—মায়ের শিয়রে বসে সেই বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারবেন।
“রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুকূলে এলে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে আমরা আশাবাদী।”

দেশের মানুষের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবারও অনুরোধ করেছেন—বেগম খালেদা জিয়ার শিগগির সুস্থতার জন্য দোয়া অব্যাহত রাখার।

একদিকে দেশের একজন শ্রদ্ধেয় নেত্রী মৃত্যুর সাথে লড়ছেন, অন্যদিকে দূর দেশে তাঁর সন্তান প্রতিটি মুহূর্তে বুকের ভেতর ধারণ করছেন মায়ের প্রতি অসীম টান, অস্থিরতা আর অগাধ ভালোবাসা।

মাকে নিয়ে তারেক রহমানের এই বার্তা তাই শুধু রাজনৈতিক নয়—এটি এক সন্তানের মায়ের প্রতি হৃদয়স্পর্শী প্রার্থনা, যার প্রতিটি শব্দে ফুটে উঠেছে বেদনাময় মানবিকতা ও অশেষ মমতার রূপরেখা।