ক্ষমা চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ফেরত দিলেন ১২ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক: মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেওয়ার পর অনুশোচনায় ১২ জন ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সনদ ফেরত দেওয়ার আবেদন করেছেন।
এদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা সনদের ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে অবসরে গেছেন। আরেকজন তাঁর আবেদনে স্বীকার করেছেন যে, ভুল করে সনদ নিয়েছিলেন। কেউ কেউ দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমি লজ্জিত।”
মন্ত্রণালয় আবেদনকারীদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেহেতু তাঁরা স্বেচ্ছায় সনদ ফেরত দিচ্ছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ করা হলে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে পারেন।
গত ১১ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও সনদপ্রাপ্তদের তা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল, যা বড় ধরনের অপরাধ।”
উপদেষ্টা আরও জানান, “স্বেচ্ছায় সনদ ফেরত দিলে সাধারণ ক্ষমা পেতে পারেন। অন্যথায়, প্রতারণার দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই আহ্বানের পর ১২ জন সনদ ফেরত দেওয়ার আবেদন করেন।
ফারুক-ই-আজম গত ২৩ মার্চ জানান,
আরও কেউ সনদ ফেরত দিতে চাইলে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে ফেরত দিলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে অর্থ ফেরতের বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেওয়ায় পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সনদ বাতিল করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, এ কে এম আমির হোসেন ও যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার। তাঁদের বিরুদ্ধে চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগ ছিল।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা যাচাইয়ের উদ্যোগ
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিপ্রাপ্তদের তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়। ইতিমধ্যে ৮৯,২৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিপ্রাপ্তদের তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৪ লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কর্মরত আছেন। যাচাই-বাছাই শেষে অনিয়ম ধরা পড়লে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।