বাংলাদেশের জোরালো দাবিতে অস্বস্তিতে ভারত, সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর অসম্মতি

যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক সিদ্ধান্তহীন : পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ভারতীয় আপত্তি

টুইট ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সর্বশেষ কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।

৬ ও ৭ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল পানির ন্যায্য হিস্যা, নদী ভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, এবং উজানের নদীগুলোর দূষণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিলেও ভারতীয় প্রতিনিধিদল আপত্তি তোলে এবং শেষ পর্যন্ত যৌথ সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে অসম্মতি জানায়।

প্রথম দিনের আলোচনা

৬ মার্চের বৈঠকে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পরিবেশ ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ, এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কিছু বিষয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ইতিবাচক মনোভাব দেখায়, যা আলোচনার সফলতার আশা জাগায়। গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে প্রাথমিক কিছু অগ্রগতি হলেও, বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

দ্বিতীয় দিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতি

৭ মার্চ কলকাতার রিজেন্সি হোটেলে বৈঠকের দ্বিতীয় দিন শুরু হয় আরও ব্যাপক এজেন্ডা নিয়ে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যৌথ নদীগুলোর পানি বণ্টন, বর্ষায় ভারতীয় বাঁধগুলোর হঠাৎ গেট খুলে দেওয়া, বন্যার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, উজানের নদীগুলোর দূষণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপনের পর ভারতীয় প্রতিনিধিদল এক পর্যায়ে আপত্তি জানায় এবং এজেন্ডাগুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনার টেবিলে তোলা হবে কি না, সে বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। বর্ষার সময় ভারতীয় বাঁধ হঠাৎ খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রেখে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খরার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরলে, ভারত এ নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করার কথা বলে।

একপর্যায়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব বৈঠকে অংশ নেন, কিন্তু দুই দেশের প্রতিনিধিদের মতপার্থক্য কমেনি। ফলস্বরূপ, যৌথ ঘোষণাপত্র ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ করণীয়

যৌথ নদী কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, বৈঠকের ফলাফল এবং বাংলাদেশের অবস্থান কলকাতা থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে, ৬ মার্চের বৈঠকে গঙ্গার পানি বণ্টন সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ স্বাক্ষর করেছে, যা আলোচনার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথে চ্যালেঞ্জ

ভারত-বাংলাদেশ অভিন্ন নদী ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই অমীমাংসিত বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান। পানি বণ্টন, বর্ষার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং উজানের দূষণ রোধে উভয় দেশের সহযোগিতা জরুরি।

এ বৈঠকের সিদ্ধান্তহীন পরিণতি আবারও প্রমাণ করল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কূটনৈতিক দক্ষতা ছাড়া এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কৌশলগত ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের আলোচনায় বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়।