ইসকন নেতার পিটিশন খারিজ: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতা ও নিপীড়ন হচ্ছে দাবি করে তা বন্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেছেন এক ইসকন নেতা।
ভারত সরকারকে তাৎক্ষণিক ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা তার আবেদন সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
কী ছিল পিটিশনের মূল বক্তব্য?
ইসকন মন্দির স্টিয়ারিং বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও লুধিয়ানার ভগবান জগন্নাথ রথযাত্রা মহোৎসব কমিটির চেয়ারম্যান রাজেশ ধান্ডা পিটিশনটি করেন।
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে এবং বলেছে, আদালত কীভাবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারে? বেঞ্চ আরও মন্তব্য করেছে, আদালতের পক্ষে এ ধরনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত অদ্ভুত হবে।
প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “এটা আমাদের জন্য মোটেও নয়। আপনার কি মনে হয় সরকার এটা সম্পর্কে অবগত নয়? এই আদালত কীভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারে?”
আবেদনে ভারতের নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর অধীনে ‘কাট-অফ ডেট’ বাড়ানোরও দাবি করা হয়েছে, যাতে সাম্প্রতিক শত্রুতার কারণে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।
এছাড়াও, আবেদনকারীর অনুরোধ ছিল বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে হিন্দু সংখ্যালঘুদের সাহায্য ও সহায়তা প্রদানের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হোক।
ভারতের জনগণের প্রতিক্রিয়া
অনেকেই বলছেন, এটি ভারতের একটি কূটনৈতিক ইস্যু, যা আদালতের বিষয় নয়।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এই পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি আদালতে মামলা করার ঘটনা বিরল, এবং এটি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন একটি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।