যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, জেলাজুড়ে আটক ৫৭

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি ২০৫ থেকে ২৫৫ জন।

টুইট প্রতিবেদক: যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় ১৬ জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে জেলাজুড়ে মোট ৫৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে যশোর শহরের লালদীঘিরপাড়ের মাইকপট্টি মোড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ২০০ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্লোগান দিতে দিতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। পুলিশের অভিযোগ, মিছিলের কারণে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে কর্মসূচি পালন করা হয়।

মামলায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ নেতা শেখ শহীদ, ইমরান হোসেন খান বাদল, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন শাহ, সভাপতি সরোয়ার হোসেন সারু, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ হোসেন অভি এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রেজওয়ান আলী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে শেখ শহীদ, ইমরান হোসেন বাদল, মোহাম্মদ আলী, বিপ্লব হোসেন, তানভীর, রফিকুল ইসলাম ও রেজওয়ানসহ কয়েকজন রয়েছেন।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুসারীরা ভোরে মিছিল করেছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ মামলা করেছে। এ মামলায় ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলার নয়টি থানায় পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন নাশকতার অভিযোগে আরও ৪১ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকায় ১৭ জন রয়েছেন। তাঁদের সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন।

এ ছাড়া চৌগাছা থানায় দুজন, মণিরামপুরে তিনজন, শার্শায় দুজন, অভয়নগরে চারজন, কেশবপুরে তিনজন, বাঘারপাড়ায় চারজন, বেনাপোল বন্দর থানায় চারজন এবং ঝিকরগাছায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে যশোর জেলাজুড়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ৫৭ জন।