যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির আভাসে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতির আভাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।
গ্রিনিচ মান সময় বেলা ২টার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ৯০ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের অবসানে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এ খবর কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।
ইরান জানিয়েছে, দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামরিক ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে চান।
এর আগে শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই উৎপাদন নীতি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের সাত সদস্য। রোববারের বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরেও তেল উৎপাদন না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত আরও এক মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে। কূটনৈতিক সমাধান বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে।






