মাভাবিপ্রবির ২৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাসের আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

গবেষণা ও শিল্প খাতের সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার তাগিদ, ৭১টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

টুইট ডেস্ক : মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প পাস করানোর আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজে লাগানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘গবেষণায় উৎকর্ষ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা গবেষণার মাধ্যমে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, তা দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের জন্য দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে গিয়েও তাঁদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান কাজে লাগাচ্ছেন। সরকার চায়, শিক্ষার্থীরা দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণার ফলাফল বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও গবেষণার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে হবে।

বাংলাদেশ জনবহুল দেশ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল উৎপাদন ও শিল্প খাতে কাজে লাগানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া দেশের ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউট চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধু ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন সার্থক হবে।

তিনি মাভাবিপ্রবিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে এক হাজার আসনবিশিষ্ট ছাত্রাবাস, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে এক হাজার আসনবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস এবং একটি ক্রীড়া অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষার্থীকে পাঠদান, ডিগ্রি প্রদান কিংবা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এসব গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের ও অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান। গবেষণার ফলাফল যেন বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।

মাভাবিপ্রবি ইতিমধ্যে এ ধরনের গবেষণা প্রকল্প গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় সমাজের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষকসমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাভাবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এ ছাড়া ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ২৪টি এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ১৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের জন্য ৩০ জন শিক্ষক ও ১৯ জন শিক্ষার্থীকে গবেষণায় উৎকর্ষ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট শিশুদের উৎকর্ষ পুরস্কার-২০২৬’ দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬-এর আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জন, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করা।