জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্ব

টুইট ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১২টার দিকে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকের আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সোমবার চার দিনের সফরে টোকিও পৌঁছান তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।

সফরের প্রথম দিনে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধিদল, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকো এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান।

এসব বৈঠকে অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সার উৎপাদন ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কৃষির আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনের উন্নয়নে সহযোগিতা চান।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহজ শর্তে ঋণ, বাজেট সহায়তা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। জাইকা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ এখন শুধু বৈদেশিক সহায়তানির্ভর থাকতে চায় না; বরং বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে চায়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর কার্যকর বাস্তবায়ন, বাংলাদেশি পণ্যের জাপানের বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবারের সফরের অন্যতম লক্ষ্য। সফরে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের শেষ দিকে নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের কারখানাও পরিদর্শন করবেন তিনি।

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দেশটির সহযোগিতা রয়েছে। এবারের সফরে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।