উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান কাতারের

উন্নয়নশীল দেশের জন্য বছরে ৪ লাখ কোটি ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি, কার্যকর অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ।
বিশ্ব ডেস্ক: উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে কাতার।
দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. মরিয়ম বিনতে আলী বিন নাসের আল মিসনেদ বলেছেন, উন্নয়ন অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারি অর্থায়ন ও প্রচলিত সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বেসরকারি পুঁজি আকৃষ্ট করতে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বিনিয়োগ ফোরামের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন অর্থায়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. মরিয়ম আল মিসনেদ।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কমে আসা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি বাড়তে থাকায় উন্নয়ন অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ ঘাটতির পরিমাণ বছরে প্রায় চার লাখ কোটি মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বেসরকারি বিনিয়োগে বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব
কাতারের প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন অর্থায়নে শুধু সরকারি তহবিল ও প্রচলিত বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বেসরকারি পুঁজি কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নতুন অংশীদারত্ব এবং কার্যকর অর্থায়নব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি সরকারি অর্থায়নকে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ প্রবাহের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিনিয়োগের সঙ্গে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানান।
ড. মরিয়ম আল মিসনেদ বলেন, কাতারের অভিজ্ঞতা উন্নয়ন সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও কূটনীতিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে। তাঁর মতে, উন্নয়ন কার্যক্রমকে কার্যকর করতে হলে অর্থায়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
উন্নয়ন অর্থায়নে তিনটি প্রস্তাব
আলোচনা সভায় উন্নয়ন অর্থায়ন জোরদার করতে তিনটি বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব তুলে ধরেন কাতারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।
প্রথমত, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগের উপযোগী প্রকল্প প্রস্তুত ও উন্নয়নে সহায়তা দিতে হবে। তৃতীয়ত, সংঘাতপ্রবণ ও ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে থাকা দেশগুলোর জন্য বিশেষায়িত অর্থায়নব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ শুধু আরও বেশি অর্থের সংস্থান করা নয়; বরং বিদ্যমান অর্থায়নকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, টেকসই অংশীদারত্ব এবং মানুষের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করা।
শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পারস্পরিক সম্পর্ক
কাতারের মধ্যস্থতা ও সংঘাত নিরসনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. মরিয়ম আল মিসনেদ বলেন, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য স্থিতিশীলতা একটি মৌলিক শর্ত। অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সুদৃঢ় করতে এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সহায়তা করে।
তিনি অর্থনৈতিক কূটনীতিকে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও টেকসই উন্নয়নের মধ্যে সংযোগ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, উন্নয়ন সহযোগিতা, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির পথ সুগম হতে পারে।
বক্তব্যে তিনি আন্তর্জাতিক উন্নয়নে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন সহযোগিতা, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ, কূটনীতি এবং স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়







