অরুণাচলে চীনা সেনাদের তাঁবু, সীমান্তে মুখোমুখি ভারত-চীন

এলএসির ভারতীয় দাবিকৃত সীমার ৬–৭ কিলোমিটারের মধ্যে তাঁবু স্থাপনের খবর, জুলাই থেকে চলছে অচলাবস্থা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনা সেনাদের তাঁবু স্থাপনকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে একাধিক স্থানে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারতের ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর। পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও অচলাবস্থা কাটেনি।

অরুণাচল প্রদেশের টাকসিং সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে একাধিক স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ছবি: ওএসআইএনটি এক্সপার্টস
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ২৩–২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার টাকসিং সার্কেলের আসাফিলা এলাকায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাঁবু স্থাপন করেছে। ভারতীয় পক্ষের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সম্পর্কে ধারণা অনুযায়ী, তাঁবুগুলো ওই রেখার ৬–৭ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত বলে সরকারি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে এই দূরত্বের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
জুলাইয়ে শুরু মুখোমুখি অবস্থান
সরকারি সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ দিকে টাকসিংয়ের মাজা কোম্পানি অপারেটিং বেসের কাছে নিয়মিত টহলের সময় ভারতীয় ও চীনা সেনারা মুখোমুখি হন। পরে দুই পক্ষ সরে গেলেও কয়েক দিন পর চীনা সেনারা বেশি সংখ্যায় ফিরে এসে উঁচু এলাকায় তাঁবু স্থাপন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে ওই এলাকায় অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপির একটি অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর বলেন, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের একাধিক স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে এবং পরিস্থিতি তখনো চলমান ছিল। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে।
ভারতের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ২৩ অক্টোবর বলেন, চীনা বাহিনী প্রচলিত টহলপথ থেকে সরে গেলে ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি জানান, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং এলএসিতে ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দুই দেশ বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
সীমান্তের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
নিরাপত্তা জোরদার করছে ভারত
সীমান্তে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ভারত ওই অঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
আইটিবিপি মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষিত ‘শৌর্য’ কমান্ডোদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক বিশেষায়িত সক্ষমতা গড়ে তোলার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
কবে সরবে চীনা সেনাদের তাঁবু
চীনা সেনারা কবে তাঁবু সরিয়ে নেবে, সে বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশিত হয়নি। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদনগুলোতে সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১৭টি তাঁবু ধ্বংস করেছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারত ও চীনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে কোনো এলাকায় সেনাদের উপস্থিতি বা টহল নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি, সামরিক যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
সূত্র: দ্য হিন্দু, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য।






