জাতিসংঘ সনদ মেনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান কাতারের

ইরানের হামলার নিন্দা, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত দোহার।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা মেনে আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ, কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে কাতারের পক্ষে এ বক্তব্য দেন জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী মিশনের দ্বিতীয় সচিব আবদুলআজিজ ফাদেল আল-সুলাইতি। ‘জাতিসংঘ সনদবিষয়ক বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন এবং সংস্থার ভূমিকা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আল-সুলাইতি জানান, শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি কাতারের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের অংশ। ২০০৩ সালে প্রণীত দেশটির স্থায়ী সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদেও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সুসংহত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সংলাপ ও মধ্যস্থতায় গুরুত্ব

কাতারের প্রতিনিধি বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেশটি ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। বিরোধ নিষ্পত্তির ভিত্তি হিসেবে শান্তিপূর্ণ সংলাপকে সমর্থন করে দোহা। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মতপার্থক্য কমিয়ে সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকেও সমর্থন জানায় দেশটি।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিকে প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং বলপ্রয়োগ কিংবা বলপ্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকার নীতি সমুন্নত রাখা জরুরি।

ইরানের হামলার নিন্দা কাতারের

কাতারের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ড ও আঞ্চলিক জলসীমা লক্ষ্য করে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে দোহা। একই সঙ্গে অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার ওপর হামলারও নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।

কাতারের প্রতিনিধি এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ (২০২৬) নম্বর প্রস্তাবের বিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেন।

কাতারের অগ্রাধিকার হিসেবে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন আল-সুলাইতি। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং অভিন্ন ভিত্তি তৈরির চেষ্টা চালাবে দোহা। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগের শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা হবে।

সৌদি আরবের প্রতি সংহতি

কাতারের প্রতিনিধি সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথি গোষ্ঠীর হামলার নিন্দা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হামলায় দুজন নিহত, কয়েকজন আহত এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কাতার এ ঘটনাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বেসামরিক নাগরিক, স্থাপনা ও বিমান চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

দোহা সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও স্বার্থ রক্ষায় গৃহীত বৈধ পদক্ষেপের পাশে থাকবে কাতার। সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে কাতার ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের ভূমিকা শক্তিশালী করার আহ্বান

বক্তব্যের শেষে আল-সুলাইতি জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা কার্যকর করা এবং সংস্থাটির ভূমিকা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় কাতারের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান।

কাতারের মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা, কার্যকর কূটনীতি এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: জাতিসংঘে কাতারের স্থায়ী মিশনের বক্তব্য।