শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর তারেক রহমান, আট মাসে তিন মন্ত্রীর পদত্যাগ

বিতর্কে জড়িয়ে পদ ছাড়লেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক সংসদ সদস্য; অভিযোগ উঠলে ছাড় না দেওয়ার নীতিতে সরকারপ্রধান
টুইট ডেস্ক: দল ও সরকারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত আট মাসে তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং এক সংসদ সদস্যের পদ ছাড়ার ঘটনায় সরকারের এই অবস্থান আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
সাম্প্রতিক সময়ে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও পদত্যাগ করেন। গত ১৭ অক্টোবর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আট মাস পূর্ণ হয়েছে।
সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দল বা সরকারের সঙ্গে যুক্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাঁর পদ-পদবি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সব অনিয়ম একসঙ্গে দূর করা সম্ভব নয়। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় সরকারকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভ্যাস পরিবর্তনে সময় লাগবে। তবে সরকারের সহনশীলতার অর্থ অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের কয়েকজনকে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন মিষ্টি। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এরপর তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সাংগঠনিক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের লোকজনের ধাওয়া দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। ইশরাক তাঁর পদক্ষেপকে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে এ ঘটনা আইন প্রয়োগের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হলেও তিনি সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন না। তাঁর বক্তব্য, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
এর আগে গত ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। পরে ২২ আগস্ট তথ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েন জহির উদ্দিন স্বপন। অবশ্য একই দিন তাঁকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে তাঁর পদত্যাগের পেছনের কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভিন্ন ভিন্ন কারণে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর মতে, ইশরাক সরকারকে বিব্রত করতে চাননি বলেই পদত্যাগ করে থাকতে পারেন। তবে তিনি মাদকবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
সরকারের সামনে এখন শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ধারাবাহিকতা কতটা কার্যকর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তা সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে স্পষ্ট হবে।






