মাথায় বলের আঘাত, পুরোনো আতঙ্কে স্মিথ

নরকিয়ার বাউন্সারে হেলমেটে আঘাত পাওয়ার পর আবারও মস্তিষ্কে আঘাতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অস্ট্রেলীয় ব্যাটার। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

টুইট ডেস্ক: মাথায় বলের আঘাত পাওয়ার পর আবারও মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা বা কনকাশনের শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। অতীতে একাধিকবার মাথায় আঘাত পাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আঘাত পাওয়ার পর পুরোনো সেই স্মৃতি ফিরে আসার ভয় কাজ করছিল তাঁর মধ্যে।

গত সোমবার ডারবানের কিংসমিডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা চলাকালে এনরিখ নরকিয়ার একটি দ্রুতগতির বাউন্সার স্মিথের হেলমেটে আঘাত করে। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন দলের ফিজিও ও চিকিৎসক। নিয়ম অনুযায়ী হেলমেট পরিবর্তন করে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন তিনি। ওই ইনিংসে ২৭ রান করেন অস্ট্রেলীয় এই ব্যাটার।

রোববার দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্মিথ জানান, আঘাত পাওয়ার পর তিনি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। অতীতে মাথায় আঘাত পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন করে একই ধরনের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাঁর মনে।

স্মিথ বলেন, আঘাতটি বেশ জোরে ছিল। ঘটনার পর দিনের বাকি সময়টা তাঁর ভালো কাটেনি। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কেমন অনুভব করবেন, তা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন তিনি।

তবে স্বস্তির খবর হলো, পরদিন সকালে নিজেকে বেশ ভালো অনুভব করেন স্মিথ। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানান তিনি।

প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিংয়ের সময় মাঠে ছিলেন না স্মিথ। কনকাশন-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশ্য মাঠে ফেরেন তিনি। তাঁর অবদানে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি ২১৪ রানে জিতে তিন টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এর আগেও মাথায় আঘাতের কারণে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে লর্ডসে ইংল্যান্ডের পেসার জোফরা আর্চারের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পান তিনি। ওই ঘটনায় টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো কনকাশন বদলি খেলোয়াড়ের ব্যবস্থা কার্যকর হয়, যার ফলে স্মিথের পরিবর্তে মাঠে নামেন অন্য একজন ক্রিকেটার।

এ ছাড়া ২০২০ সালে ইংল্যান্ড সফরে অনুশীলনের সময়ও মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। বারবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ায় সাম্প্রতিক আঘাতের পর তাঁর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক নয়।

স্মিথ দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় আপাতত স্বস্তিতে অস্ট্রেলিয়া শিবির। তবে ক্রিকেটে দ্রুতগতির বাউন্সার থেকে মাথায় আঘাতের ঝুঁকি এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।