নাটোরে বড়শিতে ১৩ কেজির চিতল

বারনই নদে ধরা পড়া মাছটি বিক্রি হয়েছে ১১ হাজার ৪৭৫ টাকায়; অভয়াশ্রমের মাছ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন?
টুইট প্রতিবেদক: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বারনই নদে বড়শিতে ধরা পড়েছে ১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি বিশাল চিতল মাছ। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপাতিল গ্রামের নদে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি ১১ হাজার ৪৭৫ টাকায় বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যায় সোনাপাতিল এলাকায় এক তরুণ বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় তাঁর বড়শিতে বড় আকৃতির চিতল মাছটি ধরা পড়ে। পরে নদীর পাড়ের সোনাপাতিল বাজারে এনে মাছটির ওজন করা হলে ১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম পাওয়া যায়।
বড় মাছ ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তা দেখতে বাজারে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন। অনেকে মাছটি হাতে নিয়ে ওজন ও আকার দেখেন এবং ছবি তোলেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারের পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
তবে মাছটি ধরা পড়ার পর স্থানীয় কয়েকজন ওই তরুণকে সতর্ক করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থলের পাশেই বারনই নদে মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। মাছটি অভয়াশ্রমের হতে পারে এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তা আবার নদে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে,এমন আশঙ্কা থেকে তরুণটি দ্রুত মাছটি বিক্রি করে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে পশ্চিম সোনাপাতিল গ্রামের জামিল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, শামীম হোসেন, শফি উদ্দিন, আবদুল মতিন ও ফজলুর রহমান মাছটি প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা দরে কিনে নেন। ১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম মাছটির মোট দাম দাঁড়ায় ১১ হাজার ৪৭৫ টাকা।
ক্রেতা জামিল হোসেন বলেন, মাছটি বাঙ্গাল খলসি গ্রামের হলদারপাড়ার এক তরুণ ধরেছেন। তবে তাঁর নাম জানা যায়নি। পুলিশের ভয়ে তিনি দ্রুত মাছটি বিক্রি করে চলে গেছেন বলে দাবি করেন জামিল।
স্থানীয় যুবক রানা আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলের পাশেই বারনই নদে মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। সেখানে বড় বড় মাছ পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে প্রকাশ্যে মাছ ধরা হয় না। ধরা পড়া চিতল মাছটিও অভয়াশ্রমের হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
তবে মাছটি সত্যিই মৎস্য অভয়াশ্রমের কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে বড়শিতে ধরা পড়া বিশাল চিতলটির উৎস ও মাছ ধরার বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে।






