অভিযানের নামে ৪০ ভরি সোনা ছিনতাই করে ছুটিতে কনস্টেবল

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযানের নামে এক ব্যবসায়ীর পাঠানো প্রায় ৪০ ভরি গলিত স্বর্ণ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর কনস্টেবল জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার অনুসন্ধানে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর সেতুর পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম। তাঁর দাবি, রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানো প্রায় ৪০ ভরি গলিত স্বর্ণ পুলিশ পরিচয়ে নিয়ে যান কনস্টেবল জাকির।
নিঝুমের অভিযোগ, তাঁর দুলাভাই মোহাম্মদ আলী রাজশাহী থেকে স্বর্ণের চালানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে স্বর্ণ পৌঁছে দেওয়ার প্রায় দুই মিনিটের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হন জাকির। পরে পুলিশ পরিচয়ে স্বর্ণগুলো নিয়ে চলে যান তিনি।
নিঝুমের দাবি, তাঁর দুলাভাই মোহাম্মদ আলী ও ভাগনে নয়নের সঙ্গে কনস্টেবল জাকিরের যোগাযোগ ছিল। অভিযানের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে নেওয়া স্বর্ণ পরে তিনজনের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়নি।
ঘটনার পর কনস্টেবল জাকির এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। ছুটি শেষে সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
অভিযোগের পক্ষে কালীনগর সেতু পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন নিঝুমের পক্ষের লোকজন। ফুটেজে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে জাকিরকে মোটরসাইকেলে করে আরেক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কালীনগর সেতুর দিকে যেতে দেখা গেছে। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ঘটনার আগে জাকিরের সঙ্গে নয়ন ও তাঁর বাবা মোহাম্মদ আলীর একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের তথ্যও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ আগস্ট জাকির ও নয়নের মধ্যে ১০ বার, ৭ আগস্ট ২৫ বার এবং ঘটনার দিন ৮ আগস্ট ১০ বার ফোনে কথা হয়। একই সময়ে জাকির ও মোহাম্মদ আলীর মধ্যেও একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফোনের অবস্থানগত তথ্য বিশ্লেষণেও স্বর্ণের চালান নিয়ে মোহাম্মদ আলী কালীনগর সেতুর আশপাশে অবস্থান করার সময় জাকিরও ওই এলাকায় ছিলেন বলে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনস্টেবল জাকির হোসেন। তাঁর দাবি, তিনি সেদিন কালীনগর সেতুর দিকে গিয়েছিলেন, কিন্তু স্বর্ণ নেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। নয়নের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে এবং মাঝে মধ্যে তাঁদের কথা ও দেখা হয় বলেও জানান তিনি।
ঘটনার আগে ও ঘটনার দিন মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। অন্যদিকে স্বর্ণের চালান নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আলী ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নয়নও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি গ্রন্থাগার পরিচালনা করেন এবং রাজশাহীতে পড়াশোনা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কনস্টেবল জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। ১০ দিনের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কনস্টেবল জাকিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






