স্বামী-স্ত্রীকে কাছাকাছি রাখার নীতি চান ব্যাংকাররা: সরকার কী ভাবছে?

স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে কাছাকাছি রাখার নীতি চান ব্যাংকাররা। স্বামী-স্ত্রী একই শহরে বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে বাড়ে কর্মপ্রেরণা, লাভবান হয় প্রতিষ্ঠান। এটি দক্ষ কর্মী ধরে রাখতেও সহায়ক হতে পারে।
বদিউল আলম লিংকন: স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী, এমন পরিবারের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু তাঁদের কর্মস্থল ভিন্ন শহরে হলে একদিকে যেমন পারিবারিক জীবনে চাপ বাড়ে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিচ্ছিন্নতার কারণে কর্মীর মানসিক স্বস্তি ও কর্মপ্রেরণাতেও প্রভাব পড়তে পারে। বিপরীতে স্বামী-স্ত্রী একই শহরে, একই প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন বিভাগে কিংবা প্রধান কার্যালয় ও শাখায় কর্মরত থাকলে পারিবারিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জন্যও ইতিবাচক ফল তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নতুন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পরিপত্রে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বোর্ড অনুমোদিত সমন্বিত ও যুগোপযোগী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে পদায়ন ও বদলি, স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনাসহ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রীকে দূরে নয়, স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে কাছাকাছি রাখার নীতি চান ব্যাংকাররা
এর অর্থ হলো, কর্মীদের পদায়ন ও স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এই নীতিমালা প্রণয়নের সময় কর্মীদের পারিবারিক বাস্তবতা, কর্মপ্রেরণা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখার সুযোগও রয়েছে।
সংসদে যা জানালেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার বিষয়টি শুধু ব্যাংকিং খাতেই নয়, সরকারি চাকরিতেও আলোচনায় এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় সংসদে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কর্মস্থল কাছাকাছি, একই জায়গা, শহর কিংবা একই উপজেলায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বিরোধী দলের সদস্য মারদিয়া মমতাজের বিধি-৭১-এর আওতায় দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ কথা বলেন।
সরকারের এই অবস্থান থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে, চাকরিজীবী দম্পতির পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় কাছাকাছি কর্মস্থলের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ব্যাংকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বিবেচনা করে।
একই শহরে থাকলে কর্মীর মানসিক চাপ কমে
ব্যাংকারদের অনেককেই কর্মসূত্রে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে হয়। স্বামী এক শহরে এবং স্ত্রী অন্য শহরে থাকলে তাঁদের পারিবারিক দায়িত্ব ভাগাভাগি করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সন্তানদের শিক্ষা, বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা, অসুস্থ পরিবারের সদস্যের পরিচর্যা এবং দৈনন্দিন পারিবারিক দায়িত্বের ক্ষেত্রে দূরত্ব বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
একই শহরে থাকলে কর্মীরা পারিবারিক দায়িত্ব তুলনামূলক সহজে সামলাতে পারেন। এতে ব্যক্তিগত জীবনের অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ কম থাকে। আর কর্মীর ব্যক্তিগত জীবন যত বেশি স্থিতিশীল থাকে, কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতাও তত বেশি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
কর্মপ্রেরণা বাড়লে লাভবান হয় প্রতিষ্ঠান
একজন কর্মী শুধু বেতন বা পদোন্নতির জন্য কাজ করেন না। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বস্তি, পারিবারিক নিরাপত্তা এবং কাজ-জীবনের ভারসাম্যও কর্মদক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্বামী-স্ত্রী একই শহরে থাকলে একজন কর্মীর পারিবারিক উদ্বেগ কমতে পারে। ফলে অফিসে অনুপস্থিতি, জরুরি ছুটির প্রয়োজন কিংবা ব্যক্তিগত কারণে হঠাৎ কর্মস্থল পরিবর্তনের আগ্রহ কমার সম্ভাবনা থাকে।
এতে প্রতিষ্ঠানেরও লাভ রয়েছে। অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ধরে রাখা, কর্মী পরিবর্তনের হার কমানো এবং দক্ষ জনবলকে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগানো ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে তৈরি করতে প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও সময় বিনিয়োগ করতে হয়। কর্মীর পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে ধরে রাখতে পারলে সেই বিনিয়োগের সুফল প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন পেতে পারে।
একই প্রতিষ্ঠান, তবে আলাদা বিভাগ, এটিই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা
স্বামী-স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও তাঁদের একই বিভাগে বা সরাসরি ঊর্ধ্বতন-অধীনস্থ সম্পর্কে থাকা জরুরি নয়। বরং একই প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন অনেক ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, একজন প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যবসায়িক কোনো বিভাগে কাজ করতে পারেন এবং অন্যজন শাখা ব্যাংকিং, এসএমই, করপোরেট বা অন্য কোনো বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এতে দুজন একই প্রতিষ্ঠানের অংশ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন, আবার তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে সরাসরি স্বার্থের সংঘাত তৈরির সম্ভাবনাও কম থাকে।
প্রধান কার্যালয় ও শাখায় থাকাও ইতিবাচক হতে পারে
একই ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয়ে এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রী কোনো শাখায় কাজ করলে সেটিও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় দুজন একই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, সংস্কৃতি ও কর্মপরিবেশের মধ্যে থাকেন। ফলে একে অপরের পেশাগত বাস্তবতা বোঝার সুযোগ বাড়ে। পাশাপাশি একই শহরে অবস্থান করলে পারিবারিক জীবনও তুলনামূলক সহজ হয়।
তবে যেখানে একজনের দায়িত্ব অন্যজনের কার্যক্রম সরাসরি অনুমোদন, মূল্যায়ন বা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে যথাযথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
স্বার্থের সংঘাত মানেই স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন না—এমন নয়
স্বার্থের সংঘাত হলো এমন পরিস্থিতি, যেখানে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থ একজনের পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে বা প্রভাবিত করার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ব্যাংকিং খাতে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। যেমন—একজন শাখা ব্যবস্থাপক তাঁর স্ত্রীকে সরাসরি মূল্যায়ন করছেন, তাঁর ছুটি অনুমোদন করছেন কিংবা পদোন্নতির সুপারিশ করছেন। এখানে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
আবার কোনো কর্মকর্তা যদি এমন ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, যেখানে তাঁর নিকটাত্মীয়ের ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে, সেখানেও স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়।
কিন্তু এর সমাধান স্বামী-স্ত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে আলাদা শহরে পাঠানো নয়। বরং দায়িত্বের যথাযথ পৃথকীকরণ, অনুমোদনের স্তর নির্ধারণ, বিকল্প তদারকি এবং স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
একই শহর বনাম একই পদ—পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ
স্বামী-স্ত্রী একই শহরে থাকছেন—এটি এক বিষয়। আর একই শাখায় একজন অন্যজনের সরাসরি অধীনস্থ—এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
তাই মানবসম্পদ নীতিমালায় ‘স্বামী-স্ত্রী একই কর্মস্থলে থাকতে পারবেন না’—এমন কঠোর সাধারণ বিধানের পরিবর্তে দায়িত্ব ও ঝুঁকির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া অধিক কার্যকর হতে পারে।
একই শহরে রেখে তাঁদের ভিন্ন শাখা, ভিন্ন বিভাগ অথবা ভিন্ন ধরনের দায়িত্ব দেওয়া গেলে একদিকে পারিবারিক সুবিধা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণও বজায় রাখা সম্ভব।
কর্মী ধরে রাখতেও সহায়ক হতে পারে
ব্যাংকিং খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ চ্যালেঞ্জ। কোনো কর্মকর্তা যদি দীর্ঘদিন এক শহরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকেন, তাহলে তিনি বদলি, চাকরি পরিবর্তন বা অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
অন্যদিকে, একই শহরে স্বামী-স্ত্রী দুজনের কর্মস্থল নিশ্চিত করা গেলে কর্মীর চাকরি ছাড়ার প্রবণতা কমতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখতে পারে।
বিশেষ করে যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় নির্দিষ্ট ব্যবসা, গ্রাহক, অঞ্চল ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে দক্ষ হয়ে ওঠেন, তাঁদের ধরে রাখা প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিকভাবেও লাভজনক।
পরিবারবান্ধব মানবসম্পদ নীতি এখন সময়ের দাবি
আধুনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কর্মীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাতেও কর্মীদের শুধু একটি জনবল সংখ্যা হিসেবে না দেখে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মপ্রেরণা ও কল্যাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করে পদায়ন ও বদলি, স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়কে নীতিমালার আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সুযোগে ব্যাংকগুলো চাইলে স্বামী-স্ত্রী দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ও ন্যায়সংগত নীতি গ্রহণ করতে পারে। যেমন—সম্ভব হলে একই শহরে কর্মস্থল, তবে সরাসরি ঊর্ধ্বতন-অধীনস্থ সম্পর্ক নয়; প্রয়োজনে ভিন্ন বিভাগ বা ভিন্ন শাখায় পদায়ন; এবং স্বার্থের সংঘাত দেখা দিলে বিকল্প অনুমোদন বা তদারকি ব্যবস্থা।
প্রতিষ্ঠানেরও লাভ, কর্মীরও স্বস্তি
একটি পরিবারকে দীর্ঘদিন আলাদা শহরে রেখে একজন কর্মীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ কর্মদক্ষতা আশা করা সব সময় বাস্তবসম্মত নয়। কর্মীর পারিবারিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে তাঁর মানসিক স্বস্তি বাড়তে পারে, কর্মস্থলে মনোযোগ বাড়তে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্যও শক্তিশালী হতে পারে।
অন্যদিকে, স্বামী-স্ত্রীকে একই শাখায় এমনভাবে রাখা, যেখানে একজন অন্যজনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকেন, সেটিও সব ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত নয়।
তাই সমাধান হতে পারে ‘একই শহর, প্রয়োজনে একই প্রতিষ্ঠান; তবে দায়িত্বে যথাযথ পৃথকীকরণ’।
নীতিতে ভারসাম্য জরুরি
ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিতে স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধ যেমন জরুরি, তেমনি কর্মীদের পারিবারিক বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করা উচিত নয়।
একজন কর্মী যদি একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ভালো কর্মদক্ষতা দেখিয়ে থাকেন, তাঁর স্বামী বা স্ত্রীও যদি একই ব্যাংকের কর্মকর্তা হন, তাহলে কেবল বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে তাঁদের দুই ভিন্ন শহরে রাখার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একই শহরে বা কাছাকাছি কর্মস্থলে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এতে পরিবার যেমন উপকৃত হবে, তেমনি প্রতিষ্ঠানও দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখার সুযোগ পাবে।
ব্যাংকে স্বামী-স্ত্রী একই শহরে বা একই প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন বিভাগে কাজ করা মানে স্বার্থের সংঘাত নয়। স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয় তখনই, যখন ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্ক একজনের পেশাগত সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি করে।
তাই নীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বামী-স্ত্রীকে অকারণে আলাদা রাখা নয়; বরং স্বার্থের সংঘাত রোধ করে কর্মীদের পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও কর্মপ্রেরণা নিশ্চিত করা।
একই শহরে, একই প্রতিষ্ঠানে কিন্তু ভিন্ন বিভাগে; অথবা প্রধান কার্যালয় ও শাখায় এমন পদায়ন অনেক ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে। এতে কর্মীর মানসিক স্বস্তি ও পারিবারিক স্থিতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখার সুফল পেতে পারে।
অতএব, ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিতে ‘স্বামী-স্ত্রী আলাদা কর্মস্থলে’—এমন কঠোর ধারণার বদলে ‘স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে পরিবারবান্ধব পদায়ন’ নীতি বিবেচনা করা সময়োপযোগী হতে পারে।






