ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: হতে পারে ব্যাংকের নতুন এসএমই বাজার

৫,৫০০ মেগাওয়াটের লক্ষ্য, নতুন প্রণোদনা ও বাড়তে থাকা অর্থায়নের সুযোগ।

কলাম। বদিউল আলম লিংকন: বাংলাদেশের জ্বালানি অর্থনীতি এখন একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আর কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অংশ।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। আর এই খাতের সম্প্রসারণে ব্যাংক খাতের ভূমিকা হতে পারে নির্ধারক। কারণ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ। এখানেই ব্যাংক ঋণ নতুন বাজার তৈরি করতে পারে।

সরকারের লক্ষ্য এখন আরও বড়

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। ২০৪০ সাল নাগাদ এই অংশ ৩০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের লক্ষ্য আরও বাড়ানো হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫,৫০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য সামনে এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত কৌশলপত্র ও রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনার নথি প্রকাশ করেছে।

আজ যে ব্যাংক এই পরিবর্তনকে বুঝবে, আগামী দিনের বাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও তারই বেশি।

অর্থাৎ সামনে যে বাজার তৈরি হচ্ছে, তা ছোট কোনো বাজার নয়। শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন এবং আবাসিক ভবনের ছাদ- সবই সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

নতুন প্রণোদনা বদলে দিতে পারে হিসাব

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া বিশেষ প্রণোদনা ব্যবস্থায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ব্যয় ৮ টাকা প্রতি ইউনিট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা প্রতি ইউনিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যোগ্য ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে সুবিধা পাওয়া যাবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বার্তা আছে—ছাদ আর শুধু ভবনের অব্যবহৃত জায়গা নয়; এটি এখন উৎপাদনশীল সম্পদ।

 

ব্যাংকের জন্য সুযোগটা কোথায়?

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারে ব্যাংক খাত। কারণ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে এককালীন মূলধনী ব্যয় বেশি হলেও প্রকল্প চালু হওয়ার পর জ্বালানি ব্যয় প্রায় নেই। ফলে প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের কাঠামো তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য।

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি ব্যাংক ঋণ নিয়ে নিজস্ব ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে, তাহলে একদিকে তার গ্রিড বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করার সুযোগ তৈরি হবে। সেই আয় ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যবহার করা সম্ভব।

এ কারণে ব্যাংকের কাছে সৌরবিদ্যুৎ অর্থায়নকে শুধু ‘সবুজ ঋণ’ হিসেবে না দেখে নগদ প্রবাহভিত্তিক ব্যবসায়িক ঋণ হিসেবে মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ অর্থায়ন কাঠামো

বাংলাদেশ ব্যাংক বহু বছর ধরেই পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থা চালু রেখেছে। পরিবেশবান্ধব পণ্য ও উদ্যোগের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে সৌরবিদ্যুৎ, সৌর হোম সিস্টেম, নেট মিটারিংভিত্তিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আকার সময়ের সঙ্গে বাড়িয়ে ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্কিম থেকে মোট ৮৫৪ কোটি টাকার বেশি পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা বিতরণ করা হয়েছিল।

অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর জন্য নীতিগত সহায়তার ভিত্তি আগে থেকেই রয়েছে। এখন প্রয়োজন হলো সেই কাঠামোকে আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা।

ইডকল দেখাচ্ছে বাস্তব ব্যবসার পথ

সৌরবিদ্যুৎ অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) অভিজ্ঞতাও ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ইডকলের বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, কারিগরি সহায়তা ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

সৌর সেচ প্রকল্পে প্রকল্প ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এবং সৌর ক্ষুদ্র বা মাইক্রো গ্রিডে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়নের কাঠামো রয়েছে। অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে প্রকল্প ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সুদের হার ৬ শতাংশ থেকে শুরু হয় এবং প্রকল্পভেদে ঋণের মেয়াদও দীর্ঘ।

ছাদভিত্তিক সৌর প্রকল্পেও ইডকলের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নজির রয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয় অর্থায়ন এবং ১০ বছর মেয়াদি ঋণের কাঠামোও রয়েছে।

নতুন প্রকল্পের বাস্তব উদাহরণ

এটি কেবল নীতিমালার বিষয় নয়; বাস্তবে বড় প্রকল্পও এগোচ্ছে। আগস্ট ২০২৬-এ ইডকল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৩টি শিল্প ছাদে মোট ৫.৮৫ মেগাওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটি বছরে প্রায় ৬.৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বছরে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হবে বলে ইডকল জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ সালের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌর প্রকল্পে অর্থায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।

এই ধরনের প্রকল্প দেখিয়ে দিচ্ছে—শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সৌরবিদ্যুৎ এখন শুধু পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নয়; এটি বিদ্যুৎ ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতারও অংশ।

ব্যাংকগুলো কীভাবে এগোতে পারে?

প্রথমত, ব্যাংকগুলোকে ‘সোলার লোন’ বা ‘রুফটপ সোলার ফাইন্যান্স’ নামে পৃথক ঋণপণ্য চালু করা যেতে পারে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক গ্রাহক, গ্রাহকভেদে আলাদা পণ্য তৈরি করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে শুধু জামানতের ওপর নির্ভর না করে প্রকল্পের নগদ প্রবাহ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি এবং ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

তৃতীয়ত, ব্যাংকগুলো ইডকল, সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানি ও সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে তিন পক্ষের অর্থায়ন মডেল চালু করতে পারে। এতে গ্রাহকের জন্য আলাদা করে প্রযুক্তি, সরবরাহকারী ও অর্থায়ন খুঁজতে হবে না।

চতুর্থত, ব্যাংকগুলো নিজেদের ভবনেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারে। এতে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে গ্রাহকদের সামনে ব্যাংক নিজেই একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি করতে পারবে।

ঝুঁকিও আছে

তবে সৌরবিদ্যুৎ অর্থায়নকে ঝুঁকিমুক্ত মনে করা ঠিক হবে না। প্রকল্পের প্রযুক্তিগত মান, প্যানেলের আয়ুষ্কাল, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রিড সংযোগ, নেট মিটারিংয়ের বাস্তব প্রয়োগ এবং গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা—সবই ঋণ মূল্যায়নে বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংককে বিক্রেতা ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীর সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে বিমা, যন্ত্রপাতির ওয়ারেন্টি, পর্যায়ক্রমিক কারিগরি পরিদর্শন এবং প্রকল্পের উৎপাদন তথ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে প্রতিবছর ৯৮ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে হতে পারে।

এই বিপুল অর্থের পুরোটা সরকারের পক্ষে জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যাংক অর্থায়নকে সামনে আনতেই হবে।

ব্যাংকের জন্য ‘সবুজ’ থেকে ‘স্মার্ট’ ব্যবসা

এখানেই মূল বিষয়টি। সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যাংকের অর্থায়নকে শুধু পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের অংশ হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত সম্ভাবনা ধরা পড়বে না।

একটি ব্যাংক যদি আজ শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে অর্থায়ন করে, তাহলে সে শুধু একটি ঋণ হিসাব খুলছে না। সে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো, উদ্যোক্তার নগদ প্রবাহ বাড়ানো, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নত করা এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি ঝুঁকি কমানোর একটি আর্থিক সমাধান তৈরি করছে।

আর এ ধরনের ঋণের সঙ্গে ব্যাংকের আরও ব্যবসা যুক্ত হতে পারে—চলতি মূলধন, আমদানি অর্থায়ন, বেতন হিসাব, লেনদেন সেবা, বীমা ও অন্যান্য ব্যাংকিং পণ্য। অর্থাৎ সোলার ঋণ হতে পারে একটি সম্পূর্ণ গ্রাহক সম্পর্ক তৈরির প্রবেশদ্বার।

বাংলাদেশের সামনে এখন একটি বিরল সুযোগ এসেছে। একদিকে সরকারের ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য, অন্যদিকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা এবং নতুন ১০ টাকা ৫০ পয়সা ইউনিটভিত্তিক প্রণোদনা—সব মিলিয়ে সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে।

এই বাজারে যারা আগে যাবে, তারা প্রযুক্তি, গ্রাহক ও অর্থায়ন—তিন ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। ব্যাংকের জন্য তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়—‘সোলারে ঋণ দেব কি না?’ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—‘কীভাবে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে এই নতুন বাজারের নেতৃত্ব নেওয়া যায়?’

কারণ আগামী দিনের ব্যাংকিং শুধু টাকা ধার দেওয়ার ব্যবসা হবে না; এটি হবে পরিবর্তনশীল অর্থনীতির নতুন সুযোগকে আগে শনাক্ত করার ব্যবসা।

সোলার প্যানেলে ব্যাংকের বিনিয়োগ তাই কেবল সবুজ অর্থায়ন নয়—এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ব্যবসা বৃদ্ধির একটি কৌশলগত বিনিয়োগ।

আজ যে ব্যাংক এই পরিবর্তনকে বুঝবে, আগামী দিনের বাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও তারই বেশি।

সরকারের স্পষ্ট লক্ষ্য এবং প্রণোদনা এখন মাঠে। ব্যাংকগুলো যদি এখনই সোলার প্যানেলে বিনিয়োগ ও ঋণ বিতরণকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে তারা শুধু জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখবে না—বরং নিজেদের পোর্টফোলিওকেও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে তুলবে।

আজকের সঠিক সিদ্ধান্তই আগামীকালের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করবে। সোলার প্যানেলে ব্যাংকের বিনিয়োগ তাই শুধু একটি বিকল্প নয়—আগামী দিনের সাফল্যের চাবিকাঠি।