রাজশাহীতে রাতভর বৃষ্টি কৃষিতে স্বস্তি নগরজীবনে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ

আমন ধানে ফুল আসার সময়ে বৃষ্টিতে ফলনের আশা বাড়ছে, ডুবেছে নগরের সড়ক-অলিগলি
নিজস্ব প্রতিবেদক : কয়েক দিনের খরায় পানির সংকটে পড়েছিল রাজশাহীর আমনখেত। ধানে ফুল আসার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকেরা। এরই মধ্যে বুধবার ভোর থেকে টানা অঝোর বৃষ্টিতে সেই উদ্বেগ অনেকটাই কেটেছে। তবে কৃষকের মাঠে স্বস্তি এনে দেওয়া এই বৃষ্টিই নগরবাসীর জন্য ডেকে এনেছে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার ভোর থেকে হওয়া বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন কৃষকেরা। অনেক কৃষককে সেচ দিয়ে জমির পানির চাহিদা মেটাতে হচ্ছিল। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে আমন ধানে ফুল এসেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি ধানের বৃদ্ধি ও দানা গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ফলে ভালো ফলনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
পবার দামকুড়া এলাকার আগাম সবজি চাষি মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি ২৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছেন। কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। বুধবারের বৃষ্টিতে সবজির উপকার হবে এবং সেচের খরচও কমবে বলে জানান তিনি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলে আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নগরে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি
কৃষিতে স্বস্তি এলেও নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এই বৃষ্টি। বুধবার সকালে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক, বর্ণালী মোড়, হেতেমখা ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানিও জমে যায়।
পানিতে আটকে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বৃষ্টি থামার পর কিছু সময়ের মধ্যে অনেক এলাকায় পানি নেমে গেলেও সকালজুড়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
বর্ণালী মোড়ের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। সময়মতো নালা-নর্দমা পরিষ্কার না করায় এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কলেজ শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, বৃষ্টির পানি অনেক সময় নর্দমার ময়লার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এক দিনের বৃষ্টি রাজশাহীতে যেন দুই বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। কৃষকের মাঠে এসেছে স্বস্তি ও ভালো ফলনের আশা, আর নগরজীবনে আবারও সামনে এসেছে জলাবদ্ধতার পুরোনো দুর্ভোগ।






