গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে পৃথক আইনি কাঠামোর উদ্যোগের কথা জানালেন তারেক রহমান
টুইট ডেস্ক: গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। ভবিষ্যতে গুম ও জোরপূর্বক অন্তর্ধানের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণীতে তারেক রহমান বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা জোরপূর্বক অন্তর্ধান অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম-অপহরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। জনপরিসরে এসব বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।
দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে গুম বা জোরপূর্বক অন্তর্ধান বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিল দুটি যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে গুম ও অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। পরিবারের সামনে থমকে যায় ভবিষ্যৎ। নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই, এমনকি স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম ও জোরপূর্বক অন্তর্ধানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভুক্তভোগী সবার আগে, এখনই পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।






