রাফালের মোকাবিলায় জে-১০সিই: ২৪ যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ!

ছবি সংগৃহিত: চীনা সশস্ত্র বাহিনী

রাফালের বিরুদ্ধে সাফল্যের প্রতিবেদন ও কম খরচকে গুরুত্ব; ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনতে প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা, চূড়ান্ত চুক্তি এখনো হয়নি।

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চীনা চেংডু জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা। চুক্তিটি সরকার-টু-সরকার বা জি-টু-জি ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনী জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতীয় রাফালের বিরুদ্ধে সাফল্য দেখিয়েছে বলে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তা প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে রাফাল ও ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় জে-১০সিই-এর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম হওয়ায় এটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবেও উপযোগী বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২৪টি যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে। প্রতিটি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার। বিমান, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও লজিস্টিক সহায়তাসহ পুরো প্যাকেজের ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে।

চীন সফরের পর আলোচনা গতি পায়

২০২৬ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় জে-১০সিই কেনার আলোচনা নতুন গতি পায়। ওই সময় সরকারি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছিলেন, আগস্টের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

এরপর জুন ও জুলাইয়ে চীনা প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের নেতৃত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি পুরো বিষয়টি তদারক করছে।

জে-১০সিই-তে যেসব প্রযুক্তি

চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ হলো জে-১০সিই। এটি ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এতে রয়েছে এইএসএ রাডার, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা, দীর্ঘপাল্লার পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক ডেটা-লিংক সুবিধা।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো জে-৭ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান বহরের তুলনায় জে-১০সিইকে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এ গুরুত্ব

‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় জে-১০সিই কেনা হলে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

এ ছাড়া চীন থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এর ফলে শুধু যুদ্ধবিমান সংগ্রহ নয়, দীর্ঘমেয়াদে বিমানবাহিনীর কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব

প্রতিরক্ষা মহলের মতে, চুক্তি সম্পন্ন হলে দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে জে-১০সিই পরিচালনাকারী দ্বিতীয় দেশ। ফলে এ যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ সরকারিভাবে জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, খসড়া চুক্তি প্রস্তুত হয়েছে এবং জে-১০সিই কেনার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

২৪টি যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও লজিস্টিক সহায়তাসহ প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচিতে বড় ধরনের সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।