চার বছর পর ভারতের গম রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বাংলাদেশের বাজারে মিলতে পারে স্বস্তি

টুইট ডেস্ক: চার বছর পর গম ও গমজাত পণ্য রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। দেশটির নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে গম আমদানির সুযোগ বাড়তে পারে। তবে ভারতীয় গমের তুলনামূলক বেশি দাম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় পরিমাণ আমদানি কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) সোমবার (২৪ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে ডুরুম গমসহ সব ধরনের গম, আটা, ময়দা ও সুজি রপ্তানির নীতি ‘নিষিদ্ধ’ থেকে ‘উন্মুক্ত’ শ্রেণিতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে এখন থেকে নির্দিষ্ট কোনো কোটা ছাড়াই ব্যবসায়ীরা এসব পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন।

২০২২ সালের মে মাসে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে ভারত গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে আরও ২৫ লাখ টনসহ মোট ৫০ লাখ টন রপ্তানির কোটা অনুমোদন করা হয়।

ভারতের সরকারি গুদামে বর্তমানে গমের মজুত শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। ১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির সরকারি মজুত ছিল প্রায় ৫ কোটি ৫ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের জন্য ভারতের সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং গমের দামও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে তুলনামূলক দ্রুত ও কাছাকাছি বাজার থেকে গম আমদানির সুযোগ তৈরি হলে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বড় বাধা হতে পারে দাম। বর্তমানে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের গমের দাম পরিবহনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে প্রতি টনে প্রায় ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলার হলেও ভারতীয় গমের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। ফলে দামের ব্যবধান কমে না এলে বাংলাদেশে বড় চালান আসার সম্ভাবনা সীমিত থাকতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকার জি-টু-জি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২২ ডলার। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রপ্তানি উন্মুক্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ গম আমদানিতে বিকল্প উৎস ও দর-কষাকষির সুযোগ আরও বাড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য সরাসরি বড় ধরনের মূল্যপতনের নিশ্চয়তা না দিলেও গমের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানির বিকল্প উৎস তৈরি এবং ভবিষ্যতে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।