ইইউ-বাংলাদেশ প্রথম ডিজিটাল সহযোগিতা রাউন্ডটেবিল অনুষ্ঠিত

গ্লোবাল গেটওয়ের আওতায় ডিজিটাল রূপান্তরে নতুন অংশীদারিত্ব।
টুইট ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো ‘ইইউ-বাংলাদেশ ডিজিটাল সহযোগিতা রাউন্ডটেবিল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইইউর বাংলাদেশ দূতাবাসের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, ইউরোপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইউরোপীয় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
রাউন্ডটেবিলের মূল লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল উদ্ভাবন ও রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইউরোপ ও বাংলাদেশের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করা। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে ডিজিটাল খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় ডিজিটাল সরকারি অবকাঠামো, সংযোগব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, পারস্পরিক সংযোগযোগ্যতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সেবা বিশেষ গুরুত্ব পায়। ইইউ দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা দুই পক্ষের অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্লোবাল গেটওয়ের আওতায় সহযোগিতা
ইইউ-বাংলাদেশের এই রাউন্ডটেবিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ে কৌশলের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কৌশলের মাধ্যমে ইইউ নিরাপদ, বিশ্বস্ত ও টেকসই সংযোগব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। ডিজিটাল রূপান্তর এ কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
ইইউর দৃষ্টিতে, বাংলাদেশের সঙ্গে ডিজিটাল সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ দুই পক্ষের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বস্ত ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নির্মাণে এটি ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ইইউর সহযোগিতা
বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ইইউ ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ১০ থেকে ১৩ আগস্ট ইইউর অর্থায়নে পরিচালিত ই-ফেকটিভ ই-গভর্নেন্স প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়া সফর করে।
সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ওয়ান-আইডি ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক পরিচয়পত্র, তথ্য ব্যবস্থাপনা, পারস্পরিক সংযোগযোগ্যতা এবং তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে এস্তোনিয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা নেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়।
বাংলাদেশ সরকারও ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল পরিচয়, এক ডিজিটাল মানিব্যাগ’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল সরকারি অবকাঠামো এবং নিরাপদ তথ্য বিনিময়ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে।
বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার সম্ভাবনা
ডিজিটাল খাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের এই নতুন সহযোগিতা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, নিরাপদ তথ্য বিনিময়, সংযোগব্যবস্থা এবং জনগণের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবাখাত ইউরোপীয় বেসরকারি খাতের জন্যও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। রাউন্ডটেবিলে সরকারি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইউরোপীয় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এ সহযোগিতাকে আরও বাস্তবভিত্তিক করার সুযোগ তৈরি করেছে।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ তৈরি
ইইউ-বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল সহযোগিতা রাউন্ডটেবিলকে দুই পক্ষের ডিজিটাল অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনায় চিহ্নিত অগ্রাধিকারগুলো ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট প্রকল্প, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ইইউ দূতাবাস এই উদ্যোগকে ‘গ্লোবাল গেটওয়ে ইন অ্যাকশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পৃক্ততা আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট সহযোগিতা, প্রকল্প বা বিনিয়োগসংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ দূতাবাসের ঘোষণা ।






