কতরফা শর্ত মেনে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নয়: রিজভী

সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নীতির কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একতরফা বা গোপন কোনো শর্ত মেনে নেওয়া হবে না।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই কোনো শর্তের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হতে পারে না। বিশ্বের সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ যেমন অন্য দেশকে আমন্ত্রণ জানাবে, তেমনি অন্য দেশের আমন্ত্রণও গ্রহণ করবে। তবে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে গোপন, একতরফা বা বিশেষ কোনো শর্ত মেনে নেওয়া হবে না।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, কোনো স্বার্থের শর্ত ছাড়া ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশ তা স্বাগত জানাবে। কিন্তু কোনো বিশেষ স্বার্থ বা শর্ত বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

রিজভী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে হতে হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের সম্পর্কের প্রস্তাব বিএনপি সরকার গ্রহণ করবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে উভয় দেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও সার্বভৌম অধিকারের প্রতি সম্মান রেখে। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কিংবা একতরফা সুবিধা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।

সরকারের কল্যাণমূলক কাজ তুলে ধরবে স্বেচ্ছাসেবক দল

এদিকে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ জনগণের কাছে তুলে ধরতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা এবং দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তা জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন

স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়া উদ্যানে যান রিজভী। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু এবং সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রিজভীর বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সমতা, পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।