রাজশাহীর টি-বাঁধ সংলগ্নে আধুনিক টয়লেটের উদ্বোধন শিগগির

রাজশাহীর টি-বাঁধে মানবিক সুবিধার নতুন আলো, শিগগির চালু হচ্ছে আধুনিক টয়লেট-ওয়াশরুম।

নিজস্ব প্রতি‌বেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর পদ্মা তীরের জনপ্রিয় পর্যটন স্পট টি-বাঁধে দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট ও ওয়াশরুম কমপ্লেক্স। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র টি-বাঁধে পাবলিক টয়লেট ও ওয়াশরুমের অভাব নিয়ে টুইট নিউজে২৪ সংবাদ প্রকাশের পর রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশে নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ টি-বাঁধে আসেন—পরিবার নিয়ে ঘুরতে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে কিংবা শুধু নদীর বাতাস নিতে। কিন্তু পরিষ্কার ও নিরাপদ পাবলিক টয়লেটের অভাবে বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের বড় ধরনের অসুবিধায় পড়তে হতো। অনেকেই লজ্জার কারণে বা অসুবিধার ভয়ে এখানে আসা এড়িয়ে চলতেন। পর্যটকদের অভিযোগও কম ছিল না।

এই মানবিক সংকটের সমাধানে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের নেতৃত্বে নতুন টয়লেট-ওয়াশরুম কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। ইটের সলিড কাঠামো, কংক্রিটের ছাদ, কোলাপসিবল আয়রন গেট এবং সুবিধাজনক সিঁড়িসহ ভবনটি প্রায় প্রস্তুত। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কাজ প্রায় শেষের দিকে।
এটি শুধু একটি টয়লেট নয়, মানুষের মর্যাদার প্রশ্নও। একটি পরিষ্কার ও নিরাপদ ওয়াশরুম থাকলে একজন মা তার সন্তানকে নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারবেন। একজন বয়স্ক মানুষ অসুবিধায় পড়বেন না। নারীরা রাতের বেলাও নিরাপদে ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্যও সুবিধা থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

রাসিকের এই উদ্যোগ শহরের অন্যান্য জনবহুল স্থানে পাবলিক টয়লেট সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতার অংশ। আগেও নগরীর বিভিন্ন জায়গায় নারী-বান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টি-বাঁধের এই কমপ্লেক্স সেই ধারাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তবে শুধু নির্মাণই যথেষ্ট নয়। চালু হওয়ার পর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি সরবরাহ, আলো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে সুবিধাটি দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য থাকে।

টি-বাঁধ এখন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের জায়গা নয়, মানবিক সুবিধারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে চলেছে। রাসিকের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে—নাগরিক সেবা মানে শুধু রাস্তা-ঘাট নয়, মানুষের মৌলিক মর্যাদা ও সুবিধার নিশ্চয়তাও। অল্পদিনের মধ্যেই যখন গেট খুলে যাবে, তখন হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন। আর সেই উপকারের গল্পই হবে রাজশাহীর মানবিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায়।